Sukhendu Sekhar Ray Resigns TMC MP Rajya Sabha

সবদিক নিউজ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর আদি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন ধরেছিল, সোমবার তা এক চূড়ান্ত ও নজিরবিহীন রূপ নিল। এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড়সড় ধস নামিয়ে সরাসরি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা দলের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক মুখ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray)। সোমবারই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। শুধু সংসদীয় পদই নয়, এর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দলীয় পদ থেকেও ইস্তফা দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি।
“মানুষের অনাস্থা স্পষ্ট, দল জনমন থেকে বিচ্ছিন্ন”
পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দল এবং দলীয় সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দেন প্রাক্তন সাংসদ। সুখেন্দুশেখর রায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দল যেভাবে চলা উচিত ছিল, সেভাবে মোটেও চলেনি। ছাব্বিশের নির্বাচনে এত বড় বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যেভাবে পর্যালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করা দরকার ছিল, তার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দলটা এখন খেই হারিয়ে ফেলেছে।”
তাঁর আরও অভিযোগ, যাঁরা দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে রয়েছেন, তাঁদের কোনও মতামতই নেওয়া হত না। একনায়কতন্ত্রের কারণে নিরুপায় হয়ে অনেকে দাঁতে দাঁত চেপে দলে পড়ে ছিলেন। কিন্তু ছাব্বিশের রায়ে মানুষ এই সরকারের প্রতি স্পষ্ট অনাস্থাজ্ঞাপন করেছে। আর আমজনতা যখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে দল জনমন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
২০১১-র দুর্নীতি ও ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চি’ খোঁচা!
দল ছাড়ার পরই তৃণমূলের দুর্নীতির ‘উৎস’ নিয়ে মারাত্মক সব কঙ্কাল বের করতে শুরু করেছেন সুখেন্দুশেখর। তিনি দাবি করেন, বঙ্গে তৃণমূলের দুর্নীতি ছাব্বিশে নয়, বরং শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে দল প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরপরই। পাহাড়ের ডেলো বাংলোয় চিটফান্ড কর্ণধারের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সেই বিতর্কিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান।
এখানেই শেষ নয়, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিক্রি নিয়ে বিস্ফোরক খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “দলের এক নেত্রীর আঁকা ছবি ১০-১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি হতো বাজারে। দলের চাটুকাররা তখন তাঁকে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছিলেন! অথচ পরবর্তীতে দেখা গেল, সেই সমস্ত দামি ছবি চড়া মূল্যে কিনছেন চিটফান্ডের মালিকরা। দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল তখন থেকেই।” সুখেন্দুর দাবি, এই দলে কোনও আদর্শ ছিল না, সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা এবং লুটপাট চালানোই ছিল আসল কর্মসূচি। দিল্লিতে মমতা-অভিষেকের মেগা বৈঠকের দিনই সুখেন্দুর এই দলত্যাগ বঙ্গে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



