0%

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে মারণ ভাইরাসের হানায় ৬ মৃত্যু, কোভিড আতঙ্ক ফিরবে? মুখ খুলল হু

দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে জাহাজে মারণ ভাইরাসের হানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। আরও ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে ছ’জনের। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বিবৃতি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। পাশাপাশি হু-র গবেষক চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হান্টা মূলত ইঁদুরবাহিত একটি ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, জাহাজে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটেছে। নতুন ভাইরাসের হানায় অনেকের কোভিড আতঙ্ক মনে পড়ছে। প্রশ্ন হল, এই সংক্রমণ কি জাহাজ থেকে ভূখণ্ডেও ছড়াতে পারে? কতটা বিপজ্জনক ভাইরাস? 

নেদারল্যান্ডের পতাকাধারী বিলাসবহুল প্রমোদতরী গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে রওনা দিয়েছিল। এরপর আটলান্টিক পার করে ইউরোপের দিকে এগোচ্ছিল। ক্রুজটির গন্তব্য ছিল স্পেনের কাছের এক দ্বীপ। যা আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার এক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। জাহাজটিতে ছিলেন ১৭০ জন যাত্রী, ৭১ জন ক্রু সদস্য। যাত্রাপথেই হঠাৎ হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়। ভাইরাসের প্রথম শিকার হন ৭০ বছরের এক ব্যক্তি। জাহাজেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দেহ দক্ষিণ আটলান্টিকে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয়।

আরও পড়ুন:

তিন মৃতদের মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডের দম্পতি এবং এক জার্মান ব্যক্তি। এছাড়াও এক ব্রিটিশ যাত্রীর ভাইরাসে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি জোহানেসবার্গের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংক্রমণের শিকার আরও তিনজন জাহাজেই রয়েছেন। একজনের কম উপসর্গ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিলাসবহুল প্রমোদতরীটি বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে কাছে রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য যাত্রীদের জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেয়নি। প্রায় ১৫০ জন লোক জাহাজে আটকে পড়েছেন।

আরও পড়ুন:

কতটা বিপজ্জনক হান্টাভাইরাস?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায় হান্টা ভাইরাস। ইঁদুরের মলমূত্র, দেহাবশেষ থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পশুর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। করোনার মতোই আরএনএ ভাইরাস হওয়ায় হান্টা দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইঁএই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকলে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে দেয়। 

হান্টা সংক্রমণে উপসর্গ:

প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, পেশির ব্যথা ও পেশির খিঁচুনি। শ্বাসনালি দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে বাসা বাঁধে ভাইরাস। এর সংক্রমণে ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ দেখা দেয় যাতে ফুসফুস বিকল হতে শুরু করে। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রোগীর। ফুসফুসে জল জমতে থাকে। কিডনির ক্ষতি হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ:

ভারতে ২০১৬ সালে মুম্বইয়ে হান্টার হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। দক্ষিণ ভারতে হান্টার সংক্রমণের কথা জানা গিয়েছিল। যেহেতু ভাইরাসটিকে শনাক্ত করা কঠিন। এই ভাইরাসকে কাবু করার মতো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ ও টিকা নেই। ফলে বিপদ ঘটার আগে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

শেয়ার

লিংক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker