আরজি কর কান্ডে এবার কি ফাঁস হবে বড় রহস্য? ২ আইপিএসের পর বিনীত গোয়েলকে তলব CBI-এর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনার প্রায় দুই বছর পর ফের সক্রিয় হয়েছে তদন্ত। ঘটনার রাতে কী কী ঘটেছিল, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনও তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না— সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার নজর ঘুরেছে তৎকালীন কলকাতা পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দিকে।
আরজিকর কান্ডে (RG Kar Case) পুলিশ আধিকারিকদের CBI তলব
জানা গেছে, আরজিকর মামলায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তাকে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। দুজনের কাছ থেকেই একাধিক সরকারি নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সেই নথির সঙ্গে ঘটনার সময়কার বিভিন্ন রিপোর্ট ও যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। একইসঙ্গে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকেও আগামী সপ্তাহে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে নিয়মমাফিক ডিউটিতে যোগ দিতে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেছিলেন এক তরুণী চিকিৎসক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর জীবন মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়।
দীর্ঘ তদন্তের পর আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনায় আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তাঁরা শুরু থেকে তদন্তের দাবি জানিয়ে এসেছেন অভয়ার পরিবার। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আর জি কর মামলার বিভিন্ন নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এর পরেই বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, ঘটনার সময় কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ কাজ করেছিল কি না। বিশেষ করে তৎকালীন সরকারের কোনও প্রতিনিধি ফোন বা বার্তার মাধ্যমে কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত কী কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কোন সিদ্ধান্ত কখন নেওয়া হয়েছিল, সেই সম্পূর্ণ টাইমলাইন পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন :নাম বদলেছে, এবার পাল্টাচ্ছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির খোলার সময়! নতুন সময়সূচি জানুন
এই তদন্তের অংশ হিসেবে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতার দাহক্রিয়ার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে শ্মশানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোলানাথ পাত্রের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবারের সম্মতি নিয়েই সমস্ত নিয়ম মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত আর জি কর কাণ্ডের অজানা অধ্যায় সামনে আনতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।




