কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক! কীভাবে ভয়েস স্যাম্পেল রেকর্ডিং হল জানেন?

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গত ১০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর বুধবার দুপুরে বিধাননগর মহকুমা আদালতে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন তিনি। কীভাবে সেই ভয়েস স্যাম্পেল রেকর্ডিং (Voice Sample Recording) হয়েছে, ইতিমধ্যেই তা সামনে এসেছে।
অভিষেক কীভাবে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন? | (Abhishek Banerjee)
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তৃণমূল সাংসদকে দিয়ে এক পাতার একটি স্ক্রিপ্ট পড়ানো হয়েছে। ওই স্ক্রিপ্টটি একবার জোরে এবং একবার আস্তে পড়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে ওই স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নিয়ম বলছে, হুবহু স্পিচ পড়ানো যায় না। সেই কারণে ‘ডিজে বাজানো’ মন্তব্যের কয়েকটি শব্দ রেখে ওই স্ক্রিপ্ট বানানো হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ দিতে হত’! মমতার হাত ছাড়ার পর বোমা ফাটালেন অনুব্রত
জানা গিয়েছে, অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা একটি মেমোরি কার্ডে স্টোর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদের আদালতে আসা থেকে নমুনা দেওয়া অবধি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে অভিষেক অথবা তাঁর আইনজীবী কোনও ভাবে বলতে না পারেন, নির্দিষ্ট কোনও শব্দ তিনি বলেননি অথবা তাঁকে জোর করা হয়েছে।
এছাড়াও সূত্রের খবর, কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার পর অভিষেককে সই করতে হয়েছে। ভয়েস স্যাম্পেল রেকর্ডিংয়ের পর তার হ্যাশ ভ্যালু তৈরি করা হয়েছে। ভিডিও রেকর্ডিংয়েরও হ্যাশ ভ্যালু ক্রিয়েট করা হয়েছে। ফরেন্সিকে পাঠানোর জন্য এই হ্যাশ ভ্যালু ক্রিয়েট করা অত্যন্ত জরুরি বলে খবর।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ‘ডিজে বাজানো’র কথা বলেছিলেন অভিষেক। পরবর্তী এই নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্তে নামে সিআইডি। এই মামলার সূত্রেই অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
যদিও অভিষেক তাতে রাজি ছিলেন না। জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট অবধি। রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল সাংসদ কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় গত ১০ জুলাই তাঁকে উচ্চ আদালতের কাছে ধমক খেতে হয়েছিল। শেষমেশ আজ কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন তিনি। এবার তা ফরেন্সিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হবে।




