0%

কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’, রাজ্য বাজেটে কোন কোন ক্ষেত্রে হাত উপুড় করবে মমতা সরকার? জল্পনা তুঙ্গে

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রবিবার কেন্দ্রের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। আর তার পরেই কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনায় সরব মমতা (Mamata Banerjee) থেকে অভিষেক, গোটা তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলেও জোর কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। যা সপ্তদশ বিধানসভার শেষ বাজেট। সেই বাজেটে বাংলার মানুষের জন্য কী কী চমক থাকবে? আপাতত সেই দিকে নজর সকলের।

গতকাল কড়া ভাষায় বাজেটের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। সামাজিক সুরক্ষায় কিছু নেই। ওরা বাংলায় হারবে। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না, ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করা।” বাজেটের সমালোচনায় সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এরই মধ্যে ভোটমুখী রাজ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করবে মমতা সরকার।

অন্তর্বর্তী বাজেটে কোন কোন বিষয়ে নজর? West Bengal Budget

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হবে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। সেই বাজেটে কী কী চমক থাকবে? যেহেতু ছাব্বিশে ভোটের আগে এটাই শেষ, তাই এবারের বাজেটে লক্ষ্মী ভান্ডার, ডিএ, পে কমিশনে নজর থাকবে। নবান্নের একটি সূত্র বলছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হতে পারে একাধিক বড় ঘোষণা।

ছাব্বিশের ভোটকে পাখির চোখ করে বিশেষ নজর দেওয়া হতে পারে লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ও খাদ্যসাথী প্রকল্পের দিকে। এই সমস্ত প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত প্রশাসনের একাংশের। একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, দ্বিগুন হতে পারে লক্ষ্মীর ভান্ডার। বা তা না হলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কিছুটা হলেও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকার তরফে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি এখনও।

Government Of West Bengal(28)

লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, খাদ্যসাথী এবং স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি কি তাহলে সময়ের অপেক্ষা? প্রশ্ন মিলবে ৫ তারিখ। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বলছেন, বাজেটে যেমন নতুন প্রকল্প চালুর ঘোষণা করা হতে পারে, তেমনিই বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বিভিন্ন প্রকল্পে। আবার, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Government Employees) একাংশ। সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত বকেয়া ডিএ মামলার রায় রিজার্ভ রয়েছে।

আরও পড়ুন: সপ্তাহের প্রথমে এক ধাক্কায় কমল হলুদ ধাতুর দর! জানুন আজকের ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কত?

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র পার্থক্য বিরাট। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৫৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন। আর সেখানে দাঁড়িয়ে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন ১৮%। সেই ৪০ শতাংশের ফারাক মেটাতে বাজেটে অন্তত এক কিস্তি ডিএ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতা এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এদিকে আবার পশ্চিমবঙ্গে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে এ বছরই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন হতে পারে, এবং রাজ্য বাজেটে সেই ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে একাধিক মহলে। এ বার রাজ্য সরকার কোন কোন দিকে হাত উপুড় করে সেটাই দেখার।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker