ধমনিতে ‘প্লাক’ জমার ঝুঁকি কমাতে ডায়েটে রাখুন এই ৪টি পানীয়! – সবদিক

হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, পানীয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া জরুরি। আমাদের ধমনির ভিতরে সময়ের সঙ্গে চর্বি, কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম-সহ বিভিন্ন পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। ধমনি সরু হয়ে গেলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বাড়তে পারে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।
তবে কোনও একটি পানীয় ধমনিতে জমে থাকা প্লাক ‘গলিয়ে’ ফেলতে পারে—এমন দাবি ঠিক নয়। বরং কিছু পানীয় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, প্রদাহ ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
– বিজ্ঞাপন –
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। বিভিন্ন গবেষণায় গ্রিন টির সঙ্গে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। নিয়মিত গ্রিন টি পান করা হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
তবে বোতলবন্দি বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো গ্রিন টির বদলে চিনি ছাড়া সদ্য তৈরি গ্রিন টি বেছে নেওয়াই ভাল।
ডালিমের রস
ডালিমে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল। কিছু ছোট গবেষণায় ডালিমের রসের সঙ্গে রক্তনালির কার্যকারিতা এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। তবে ধমনির প্লাক কমানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।
ডালিমের রস খেলে চিনি না মেশানো রস বেছে নেওয়া ভাল। সম্ভব হলে গোটা ডালিম খেলে ফাইবারও পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
বিটের রস
বিটে প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে। শরীরে তা নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তনালিকে প্রসারিত করতে এবং রক্তপ্রবাহে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় বিটের রসের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্কও দেখা গিয়েছে।
তবে যাঁদের রক্তচাপ কম থাকে বা রক্তচাপের ওষুধ চলছে, তাঁরা নিয়মিত বিটের রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হলুদ মেশানো দুধ
হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পরীক্ষাগার ও কিছু মানব-গবেষণায় কারকিউমিনের সম্ভাব্য হৃদ্স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে হলুদ দুধ খেলে ধমনির প্লাক কমে যায়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও নেই।
তাই এটিকে চিকিৎসার বিকল্প না ভেবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীবনযাপন
ধমনিতে প্লাক জমা সাধারণত দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। শুধু কোনও একটি পানীয় পান করে এর সমাধান সম্ভব নয়। ধূমপান বন্ধ করা, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা হাঁটার সময় পায়ে ব্যথার মতো উপসর্গ হলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে হঠাৎ তীব্র বুকব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।



