0%

পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে পেট্রোল-ডিজেল! জ্বালানির প্রসঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

সবদিক নিউজ:পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি (Fuel Crisis) সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। একাধিক দেশে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ভারতে পেট্রল, ডিজেল কিংবা অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ারও আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র।

জ্বালানির (Fuel Crisis) প্রসঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র

সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, বর্তমানে যে অঞ্চলগুলিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করা হয়। তবু সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “দেশে সমস্ত ধরনের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

 ‘গোটা বিশ্বের কাছে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছিল সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ’! কুম্ভাভিষেকে কী জানালেন মোদী?

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি যে সংযমের বার্তা দিয়েছেন, সেটিকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির সঠিক ব্যবহার এবং দেশের অর্থনীতির উপর চাপ কমানোর একটি সচেতন প্রচেষ্টা। সুজাতা শর্মার বক্তব্য, “গোটা বিশ্ব যখন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, তখন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সংযত হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো গেলে ভবিষ্যতের চাপ অনেকটাই সামলানো সম্ভব হবে।”

প্রসঙ্গত, রবিবার জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিক বিষয়ে সংযমের আহ্বান জানিয়েছিলেন। করোনাকালের উদাহরণ টেনে তিনি অনেক ক্ষেত্রেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আগামী এক বছর বিদেশ সফর, বিদেশে গিয়ে বিয়ে আয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর কথাও বলেন তিনি। শুধু জ্বালানি নয়, ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং সোনা কেনায় সংযম দেখানোরও আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এবং অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

টানা ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা! পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে গ্রেফতার করল ইডি

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের আমদানি ব্যয়ের উপরও। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, দেশের কৌশলগত তেল ভান্ডার এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এখনই উদ্বেগের কিছু নেই। তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সচেতনভাবে জ্বালানি (Fuel Crisis) ব্যবহার করার বার্তাই দিচ্ছে কেন্দ্র।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker