0%

পাঁচিল টপকে প্রেম, রক্তে লেখা চিঠি! ‘আশিকি’ সিনেমা নয়, বাবা-মায়ের প্রেমের গল্প! বিস্ফোরক দাবি পূজা ভাটের

১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি’ শুধু একটি সুপারহিট সিনেমাই নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের গল্প হিসেবেও আজও দর্শকদের মনে জায়গা করে রেখেছে। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় পরে জানা গেল, ছবির সেই আবেগঘন প্রেমকাহিনির নেপথ্যে ছিল পরিচালক মহেশ ভাট এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী কিরণ ভাটের (আগের নাম লরেন ব্রাইট) বাস্তব জীবনের প্রেম। সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই অজানা কাহিনি সামনে এনে চমকে দিয়েছেন মহেশ ভাটের মেয়ে পূজা ভাট।

পূজা জানান, তাঁর বাবা-মায়ের প্রেম শুরু হয়েছিল একেবারে সিনেমার মতোই। সেই সময় মহেশ ভাটের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর, আর লরেনের বয়স ১৪। লরেন মুম্বইয়ের একটি স্কটিশ অনাথ আশ্রমে থাকতেন। একদিন স্কুলের স্পোর্টস ডে-তে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান মহেশ। আবেগ সামলাতে না পেরে অনাথ আশ্রমের পাঁচিল টপকে লরেনের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু ধরা পড়ে যান কর্তৃপক্ষের হাতে।

সাউথের সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়েই বিপত্তি! রাজেশ শর্মার পায়ে ছড়িয়েছে সংক্রমণ, কড়া নজরে চিকিৎসকরা

পূজার কথায়, “বাবার সেই কাণ্ডের পর মায়ের দিদিমাকে ডাকা হয়েছিল। তিনি সোজাসাপ্টা বলেছিলেন, ‘যদি পাঁচিল টপকে আমার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার মতো বড় হয়ে থাকো, তাহলে ওর দায়িত্ব নেওয়ার মতো বড়ও হয়েছ।'” এই ঘটনার জেরেই অনাথ আশ্রম থেকে বহিষ্কার করা হয় লরেনকে। এরপরই তাঁর পাশে দাঁড়ান মহেশ ভাট। নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে তাঁকে ইয়ং উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (YWCA)-এ থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি থাকার অনুমতি পেতে বাবার স্বাক্ষরও নকল করেছিলেন তিনি। পরে লরেন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান এবং ধীরে ধীরে নিজের জীবন গুছিয়ে নেন।

শুধু তাই নয়, তাঁদের প্রেমের গল্পে ছিল আরও সিনেম্যাটিক মুহূর্ত। মহেশ ভাট নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রথমবার সাহস করে লরেনকে তিনি ‘মিলন সুপারি’ অফার করেছিলেন। এরপর দু’জনের মধ্যে চিঠির আদান-প্রদান শুরু হয়। স্কুলের ইউনিফর্ম তৈরি করা এক দর্জিকে অনুরোধ করে গোপনে প্রেমপত্র পৌঁছে দিতেন তিনি। সেই প্রেমপত্রে কালি নয়, রক্ত দিয়েই লিখেছিলেন নিজের ভালোবাসার কথা। আশ্চর্যের বিষয়, লরেনও রক্ত দিয়েই তাঁর উত্তর পাঠিয়েছিলেন।

‘শরীরে র‍্যাশ, জ্বর, তবু হাল ছাড়ছি না’, লিভারের ক্যানসার, বারবার অস্ত্রোপচার, এবার ইমিউনোথেরাপি—অদম্য লড়াইয়ে দীপিকা কক্কর

পরে স্কুলের একটি খালি শ্রেণিকক্ষে দু’জনের গোপন সাক্ষাৎ হয়। সেই স্মৃতি মনে করে মহেশ বলেছিলেন, “অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিল। ও আমার মুখ দেখতে চেয়েছিল। আমি দেশলাই জ্বালিয়েছিলাম। সেই আলোয় ওকে দেখে মনে হয়েছিল, জীবনে এর চেয়ে সুন্দর কাউকে দেখিনি।” কিন্তু বেশিদিন গোপন থাকেনি সেই সম্পর্ক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দর্জি চাকরি হারান এবং লরেনকেও স্কুল ছাড়তে হয়।

এরপর দু’জনের সংসার শুরু হয়। তাঁদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় পূজা ও রাহুল ভাট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। অভিনেত্রী পারভিন বাবির সঙ্গে মহেশ ভাটের সম্পর্ক তাঁদের দাম্পত্যে বড় ভাঙন তৈরি করে। পরে সেই সম্পর্কও শেষ হলে মহেশ ভাট অভিনেত্রী সোনি রাজদানের প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিচ্ছেদের পরেও লরেন ভাট কখনও মহেশের বিরুদ্ধে তিক্ততা পোষণ করেননি। বরং যখন অনেকেই সোনি রাজদানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তখন তিনিই সকলের সামনে বলেছিলেন, “অনুমতি কে দিয়েছে জানতে চাইছ? আমি দিয়েছি। আমার আশীর্বাদ রয়েছে তাঁদের সঙ্গে।”

আজও মহেশ ভাটের জীবনের এই বাস্তব প্রেম, বিচ্ছেদ, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার গল্প অনেকের কাছেই যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। আর সেই কারণেই ‘আশিকি’র প্রেমকাহিনি এত বছর পরেও দর্শকের হৃদয়ে একইভাবে অমলিন হয়ে রয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker