পারিশ্রমিক বিতর্কে তোলপাড়, সতেন্দ্র সোনির পাশে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন

‘লাপাতা লেডিজ’ ও ‘মির্জাপুর’-খ্যাত অভিনেতা সতেন্দ্র সোনি সম্প্রতি একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করে পরিচালক-প্রযোজক পুষ্পেন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রদেশের মৈহারে ‘পেড় পালখি’ ছবির শুটিং চলাকালীন পারিশ্রমিক চাইতেই তাঁকে এবং আরও কয়েকজন শিল্পীকে সেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার পর সতেন্দ্র সোনির পাশে দাঁড়িয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)। সংগঠনটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ অভিনেতার ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছে, সতেন্দ্রর অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে শিল্পী ও কর্মীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
AICWA-র বক্তব্য, বহু শিল্পী ও কলাকুশলী কাজের প্রতিশ্রুতি পেলেও সময়মতো পারিশ্রমিক পান না। বরং প্রাপ্য টাকা চাইলে তাঁদের ভয় দেখানো বা হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। সংগঠনের মতে, এ ধরনের অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছে, সতেন্দ্র সোনির অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালক-প্রযোজকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা হোক এবং রাজ্যে কর্মরত শিল্পী ও চলচ্চিত্রকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
কী অভিযোগ করেছেন সতেন্দ্র সোনি?
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে সতেন্দ্র জানান, পরিচালক পুষ্পেন্দ্র সিংহের ‘পেড় পালখি’ ছবির জন্য তাঁকে ১০ দিনের শুটিংয়ের চুক্তিতে নেওয়া হয়েছিল। অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি পারিশ্রমিক শুটিং চলাকালীন দেওয়ার কথা ছিল।
অভিনেতার দাবি, টানা আট দিন কাজ করার পর তিনি পারিশ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে শুটিং থেকে বাদ দেন। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং না গেলে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
ভিডিওর ক্যাপশনে সতেন্দ্র আরও লেখেন, শুটিং ইউনিটের অনেক সদস্যই তখনও পারিশ্রমিক পাননি বলে তিনি জানতে পারেন। টাকা চাইতেই পরিচালক তাঁকে চলে যেতে বলেন। তাঁর অভিযোগ, পরিচালকের স্ত্রী এবং ছবির নায়িকা প্রগতি চৌহানও তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
আরও পড়ুন: ‘মানুষ এখন একাধিক চরিত্র যাপন করছে’, পুণের ব্যবসায়ী কেতন হত্যাকাণ্ডে কঙ্গনার পোস্ট ভাইরাল
সতেন্দ্রর কথায়, তিনি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে সঙ্গে সঙ্গে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তাঁর সঙ্গে অভিনেতা শ্রীধর দুবে ও পঙ্কজ শর্মাও হোটেল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মৈহার পুলিশের সহযোগিতা, অভিনেতা আশুতোষ রানা এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সতেন্দ্র সোনি ও তাঁর দুই সহকর্মী নিরাপদে মুম্বই ফিরে যেতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনা এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন সম্প্রতি চরিত্রাভিনেতাদের পারিশ্রমিক বকেয়া, অর্থপ্রদানে বিলম্ব এবং শুটিং সেটে বৈষম্যমূলক আচরণের মতো সমস্যাগুলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রথম দেখাতেই শাবানার প্রেমে পড়েছিলেন মনোজ বাজপেয়ী, সাত বছরের প্রেম! তারপর বিয়ে



