বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী রথীন্দ্রনাথ! বিধানসভার স্পিকার পদে সংঘ ঘনিষ্ঠ বিধায়ক

সবদিক নিউজ: প্রত্যাশামতোই কোনও লড়াই ছাড়াই অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। শুক্রবার বিধানসভায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীরা কোনও পালটা প্রার্থী না দেওয়ায় ধ্বনিভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্রবাবু। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে সসম্মানে আসীন করেন। তবে এই সৌজন্যের বাতাবরণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমন এক ঘোষণা করলেন, যা বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন।
জনগণের সামনে ‘লাইভ’ অধিবেশন
স্পিকারকে স্বাগত জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, “জনগণ নিজের চোখে দেখুক তাঁদের নির্বাচিত বিধায়করা হাউসের ভেতরে কী পারফরম্যান্স করছেন। আমরা চাই স্বচ্ছতা। বিরোধীদের আচরণ থেকে শুরু করে সরকারের কাজ, সবটাই মানুষ বিচার করুক।”
অতীতের তিক্ততা ও খোঁচা
এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল জমানার কথা উল্লেখ করে নাম না করেই কড়া খোঁচা দেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই না কোনও অপরাধ ছাড়াই কোনও বিরোধী নেতাকে ১১ মাস হাউসের বাইরে থাকতে হোক (নিজে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন সাসপেনশনের কথা মনে করিয়ে)। আমরা চাই না কোনও বিরোধী বিধায়ককে রক্তাক্ত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে হোক (শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার প্রসঙ্গ)।” শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, এই বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং তর্কের জায়গা।
বিরোধীদের জন্য ৫০-৫০ ফর্মুলা
বিজেপি সরকার যে বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তা প্রমাণ করতে মুখ্যমন্ত্রী এক অনন্য প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, সংখ্যাতত্ত্বে তৃণমূল বা বিরোধী দল পিছিয়ে থাকলেও, আলোচনার ক্ষেত্রে সরকার ৫০-৫০ সময় বণ্টনে রাজি। অর্থাৎ শাসক ও বিরোধী দল সমান গুরুত্ব পাবে অধিবেশনে। “হাউস বিলংস টু অপোজিশন”, এই তত্ত্বে ভরসা রেখে বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসও দায়িত্ব নিয়েই নিরপেক্ষভাবে হাউস চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘লাইভ’ ঘোষণার পর এখন শাসক-বিরোধী তরজা মানুষের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে যাবে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।



