বেজিংয়ে ঐতিহাসিক বৈঠক ট্রাম্প-জিনপিংয়ের! হরমুজ থেকে তাইওয়ান সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে বিশ্বের দুই বৃহত্তম শক্তি ফের মুখোমুখি। প্রায় এক দশক পর কোনও মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের বেজিং (China-America) সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিনের রাজধানীতে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ আয়োজিত এই বৈঠকে বাণিজ্য, আমদানি শুল্ক, এআই প্রযুক্তি, রেয়ার আর্থ মিনারেল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুই যে বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুই পক্ষের বক্তব্যে।
ট্রাম্প-জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বৈঠকে চিন-আমেরিকা (China-America) সম্পর্কে নতুন মোড়!
বৈঠকের সময় সৌজন্যের আবহ বজায় রাখলেও কূটনৈতিক বার্তায় ছিল স্পষ্ট চাপানউতোর। শি জিনপিং বলেন, চিনের পুনর্জাগরণ এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ ভাবনা একসঙ্গে এগোতে পারে। জবাবে ট্রাম্প তাঁকে “মহান নেতা” বলে উল্লেখ করেন এবং হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে এই সৌজন্যের আড়ালেই তাইওয়ান প্রশ্নে নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তাঁর সাফ বক্তব্য, তাইওয়ান চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে আমেরিকার কোনও ভিন্ন অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে। শি আরও বলেন, “তাইওয়ান কখনও স্বাধীন দেশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না।”
আরও পড়ুন: মিলবে কড়কড়ে ৩০০০, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে ফের বড় ঘোষণা রাজ্যের মন্ত্রীর
বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখার বিষয়ে দুই দেশ নীতিগত ভাবে একমত হয়েছে। মার্কিন ট্রেজ়ারি সেক্রেটারি স্কট বেসেনেট জানান, বেজিং এই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। যদিও চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম শিনহুয়ার দাবি, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ় নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আলোচনা হয়নি। তবুও আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মার্কিন অর্থনীতির চাপ ট্রাম্প প্রশাসনকে চিনের সঙ্গে আপসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান ইতিমধ্যেই কিছুটা নরম হয়েছে। বৈঠকের আগে তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে। ইতিমধ্যেই দেশে মূল্যবৃদ্ধি রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করতেও বেগ পেতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখতে চিনের সমর্থন ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: পেট্রোল-ডিজ়েলের মূল্যবৃদ্ধির জোড়া ধাক্কা! বাড়তে পারে বাজার খরচ ও যাতায়াত ভাড়া
অন্যদিকে চিনও (China-America) এই পরিস্থিতিকে কৌশলগত ভাবে কাজে লাগাতে চাইছে। ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বেজিং। ফলে হরমুজ়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে চিনের জ্বালানি নিরাপত্তাও বিপদের মুখে পড়বে। তাই ট্রাম্পকে চাপের মধ্যে রেখে তাইওয়ান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে শি প্রশাসন। গত বছর বাণিজ্যযুদ্ধে যেমন ক্রিটিক্যাল মিনারেলের অস্ত্র ব্যবহার করে ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলেছিল বেজিং, তেমনই এবার ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি সঙ্কটকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শেষে কূটনৈতিক লড়াইয়ে শেষ হাসি কার মুখে ফুটে ওঠে।



