0%

মর্মান্তিক! কাতারের LNG কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের, কী জানাল প্রশাসন?

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কাতারের (Qatar Blast) রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। প্রথমে আশঙ্কা করা হলেও, শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। সোমবার রাতে কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কাতার প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে কর্মরত ভারতীয়দের এমন করুণ পরিণতির খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে নিহতদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে।

কাতারের (Qatar Blast) LNG কারখানায় বিস্ফোরণে ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ ভারতের:

স্থানীয় সময় রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ কাতারের (Qatar Blast) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি গ্যাস কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৬৬ জন। দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মৃতদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক থাকার খবর প্রকাশিত হলেও, সরকারি স্তরে তখনও তা নিশ্চিত করা হয়নি। পরে কাতার প্রশাসনের তরফে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হলে জানা যায়, মৃত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়।

আরও পড়ুন: বন্দে ভারত-সহ ভারতের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতে এবার মিলবে ঝালমুড়ি! কী পরিকল্পনা রেলের?

ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং কাতার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানিয়েছে। আহত ভারতীয়দের চিকিৎসার বিষয়েও দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। বহু ভারতীয় দীর্ঘদিন ধরে কাতারের জ্বালানি শিল্পে কাজ করছেন। ফলে এই দুর্ঘটনা শুধু একটি শিল্পাঞ্চলের দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রবাসী ভারতীয় সমাজের জন্যও এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি এই ঘটনায় মুখ খুলেছে ভারতীয় সরকারও। মঙ্গলবার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় পরিবারগুলোর পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে ভারত সরকার। বিদেশমন্ত্রী বলেন, কাতারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে ভারত তাঁদের দুঃখে সমানভাবে শামিল। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি আশ্বাস দেন, নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বতোভাবে পাশে থাকবে।

এদিকে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কাতারের সরকারি জ্বালানি সংস্থা ‘কাতার এনার্জি’। সংস্থার প্রধান নির্বাহী আধিকারিক সাদ আল-কাবি তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার উৎস এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। কাতারের মতো জ্বালানি-নির্ভর অর্থনীতিতে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শিল্পাঞ্চলে এমন দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

India expresses grief over the deaths of Indian nationals in Qatar Blast.

আরও পড়ুন: ‘কিছু তো বাদ যাবেই’! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরাট আপডেট দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী

তবে কাতার (Qatar Blast) প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরেও দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বন্দর সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবুও দুর্ঘটনার অভিঘাত ছিল ব্যাপক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ এবং কম্পন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের রাজধানী দোহা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। কাতারে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker