0%

‘ক্রিকেট ছেড়েছি, ছেলে এখনও বিশ্বাস করছে না’, অবসর নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে অনুষ্টুপ

শেষবার ইডেনের ড্রেসিংরুম থেকে যখন বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, প্রবল নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছিলেন তিনি। চোখের দু’কোন চিকচিক করছিল জলে। তাকিয়ে ছিলেন ড্রেসিংরুমের ওই চেয়ারটার দিকে। একদিন যেখানে বসতেন। ক্রিকেটার হিসাবে সেই চেয়ারে আর বসা হবে না। অবসরের পর দু’দিন কেটে গিয়েছে। সময়টা একটু অন্যরকম। একান্ত সাক্ষাৎকারে অনুষ্টুপ মজুমদার যা বললেন….

প্রশ্ন: শেষবারের জন্য যখন ইডেনের ড্রেসিংরুম থেকে বেরোচ্ছিলেন নস্ট্যালজিক লাগছিল?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।

চোখ রাখুন

অনুষ্টুপ: ইডেন পৌঁছনো পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু দুটো টিম মিলে যখন সংবর্ধনা দিচ্ছিল, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারছিলাম না। ভীষণ নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল ক্রিকেটার হিসাবে শেষবার এই ড্রেসিংরুমে। এরপর থেকে আর সেটা হবে না। ড্রেসিংরুমে যে চেয়ারে বসি, সেটা দেখেও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলাম। ক্রিকেটার হিসাবে আর ওই চেয়ারে কখনও বসা হবে না।

প্রশ্ন: কেরিয়ারের শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গেল (বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগ)।

অনুষ্টুপ: হ্যাঁ, বৃষ্টির জন্য ওই ম্যাচটা হয়নি। কিন্তু সেটা তো আর আমার হাতে নেই।

প্রশ্ন: অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন ছিল।

অনুষ্টুপ: খুব কঠিন ছিল। নিজেও একটু দোনামোনায় ছিলাম। ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ঘরোয়া মরশুম শেষ হয়েছিল। তারপর আইপিএলের কমেন্ট্রির মাঝে একদিন সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি। স্ত্রীকে জানালাম। কাছের কিছু লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করি। স্ত্রী চাইছিল না এখনই অবসর নিয়ে নিই। ও বলেছিল, বাংলা ক্রিকেটকে আরও কিছু দেওয়ার আছে আমার।

Anustup Majumdar opens up after retire from first-class cricket
অনুষ্টুপ মজুমদার। ফাইল ছবি

প্রশ্ন: খুব ভুল কিছু তো বলেনি। গত কয়েক বছর বাংলাকে সব উজাড় করে দিয়েছেন। টিম যখনই বিপদে পড়েছে ক্রাইসিস ম্যান হিসাবে সব সামলেছিলেন। আপনার যা ফর্ম আর ফিটনেস এখনও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন।

অনুষ্টুপ: সেটা হয়তো পারতাম। তবে নিজের কেরিয়ার আর দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। দেখুন, সবাইকে কখনও না কখনও থামতেই হয়। আমার মনে হয়েছিল, এবার থামা উচিত। তাই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি।

প্রশ্ন: এদিন ড্রেসিংরুমে সঙ্গে ছেলে ছিল। ও কিছু বলল?

অনুষ্টুপ: ছেলে বিশ্বাসই করতে। চাইছে না যে আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি। আমি যে আর কখনও। মাঠে নামব না, সেটা ওকে বোঝাতে পারছি না। শুধু একটা কথাই জিজ্ঞেস করছে-‘বাবা, তুমি কি আর সত্যি কখনও খেলবে না?’ আসলে ও এখন বেশ ছোটো। মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে।

Anustup Majumdar opens up after retire from first-class cricket
অনুষ্টুপ মজুমদার। ফাইল ছবি

প্রশ্ন: আর আপনার। মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না?

অনুষ্টুপ: প্রথম কয়েক দিন হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে মাঠ থেকে তো আর চলে যাচ্ছি না। এবার কোচিং করাব। অনুর্ধ্ব ১৬ বাংলা টিমের কোচের দায়িত্ব দিয়েছে সিএবি।

প্রশ্ন: কোচিংয়ে আসার সিদ্ধান্তটাও কি তখনই নিয়েছিলেন?

অনুষ্টুপ: মহারাজদা-র (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে কথা হয়েছিল। আমি অবসরের কথা বলেছিলাম। আমাকে বলেছিল যদি অন্য কিছু করার ভাবি, অর্থাৎ কোচিং তাহলে যেন জানাই। তারপর সিএবি কোচের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিল। আমি আবেদন করি। ইন্টারভিউ হয়।

ইডেন পৌঁছনো পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু দুটো টিম মিলে যখন সংবর্ধনা দিচ্ছিল, তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারছিলাম না। ভীষণ নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল ক্রিকেটার হিসাবে শেষবার এই ড্রেসিংরুমে। এরপর থেকে আর সেটা হবে না।

প্রশ্ন: লম্বা কেরিয়ার। ক্রিকেট জীবনে উত্থান-পতন দেখেছেন। অবসরের পর যদি প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব করতে হয়, তাহলে কী বলবেন?

অনুষ্টুপ: ক্রিকেট আমাকে সর্বস্ব দিয়েছে। আজ যেটুকু পরিচিতি পেয়েছি, সেটা ক্রিকেটের জন্যই। আমি তো বলব আমি যা পেয়েছি, সেটা অনেকেই হয়তো পায় না। তাই সে’সব নিয়ে কোনও আক্ষেপ আমার নেই। আফসোস শুধু একটাই। রনজি জেতাটা আর হল না। শেষ কয়েক বছর আমাদের টিম দুর্ধর্ষ ক্রিকেট খেলেছে। নিয়মিত নকআউটে খেলেছি। দুটো ফাইনাল। দুটো সেমিফাইনাল। তাই আফসোস একটু বেশি। অবসরের সময় যদি সিভিতে একটা রনজি ট্রফি থাকত, তাহলে সব কিছু পূরণ হয়ে যেত। কোনও আফসোস থাকত না।

Anustup Majumdar opens up after retire from first-class cricket
অনুষ্টুপ মজুমদার। ফাইল চিত্র

প্রশ্ন: কোচ হিসাবে বাংলাকে ট্রফি দিয়ে সেই আফসোস মেটাতে চান নিশ্চয়ই?

অনুষ্টুপ: ক্রিকেটার হিসাবে রনজি জিততে না পারার আফসোস সারাজীবন থেকে যাবে। চেষ্টা করব কোচ হিসাবে নিজের সেরাটা দেওয়া। তবে কোচ আর ক্রিকেটারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। ক্রিকেটার হিসাবে টিমকে দেখা এরকম, কোচ হিসাবে আর একরকম। তবে গৌতমদা (গৌতম সোম) জুনিয়র রয়েছেন আমার সঙ্গে। সেটা ভীষণ কাজে লাগবে। ওঁর কোচিংয়ে আমি খেলেছি। কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় প্রত্যেকদিনই কথা হচ্ছে। কীভাবে আমরা এগোব, কী পরিকল্পনা হবে, সবকিছু নিয়েই আমরা আলোচনা করছি।

Fifa World Cup 2026

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের
‘ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ’ – এর পাতায়।

চোখ রাখুন

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker