চুরি রুখতে অভিনব সিদ্ধান্ত, রাম মন্দিরে চালু হচ্ছে ‘নো-পকেট’ ইউনিফর্ম

বাংলা হান্ট ডেস্ক : অযোধ্যার রামমন্দিরে (Ram Mandir) ভক্তদের দান করা অর্থ চুরির অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। তদন্ত চলাকালীন ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রুখতে মন্দির কর্তৃপক্ষকে একগুচ্ছ নিরাপত্তামূলক সুপারিশ করেছে তদন্তকারী দল।
রাম মন্দিরে (Ram Mandir) চুরি রুখতে বিশেষ সুপারিশ
ভবিষ্যতেই রাম মন্দিরের চুরি রূপে তদন্তকারী দল একগুচ্ছ প্রস্তাব জারি করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হল, দানের অর্থ সংগ্রহ ও গণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য বিশেষ ধরনের ইউনিফর্ম চালু করা। সেই পোশাকে কোনও পকেট রাখা হবে না। তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে অর্থ সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনার পুরো ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দানবাক্স খোলা, অর্থ বের করা, গণনা করা এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা পুরনো কর্মীদলকে সরিয়ে নতুন দল নিয়োগ করা হয়েছে। একইভাবে মন্দির থেকে ব্যাঙ্কে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও বদল করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি অর্থ গণনার কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তল্লাশির ব্যবস্থাও চালু করার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রামমন্দিরে দানের অর্থ গায়েব হওয়ার অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে তোলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের খবর। রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা মন্দির ট্রাস্টের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর। কেউই সামনে এসে এই ইস্যুতে মুখ খুলতে চাইছেন না।” পাশাপাশি তিনি আদালতের হস্তক্ষেপের দাবিও জানান।
যদিও শুরুতে মন্দির ট্রাস্ট এই অভিযোগ মানতে রাজি হয়নি। কিন্তু নিজেদের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে কিছু অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলায়। এরপর ট্রাস্টের তরফ থেকেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের SIT তৈরি করে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ইতিমধ্যে মন্দিরের দুই কর্মচারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে অযোধ্যা পুলিশ।

আরও পড়ুন : SIR-এ বাদ পড়লেই বাতিল রেশন কার্ড? বড় বিতর্কের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
তদন্ত সূত্রে খবর, তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। সেই সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর একটা চিন্তা ভক্তদের টাকা নিয়ে। একই সঙ্গে তিনি উদ্বিগ্ন মন্দিরের সিস্টেম নিয়ে। এখানে একটা পুরোপুরি ভেঙে পড়া সিস্টেম কাজ করছে। আগামী দিনে এই ভেঙে পড়া জরাজীর্ণ সিস্টেমকে কীভাবে ভালো সিস্টেমে পরিণত করা যায়-সেটাই চ্যালেঞ্জ।” এই ঘটনার পর মন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন ও ভক্তমহল।




