মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ৩০০ মার্কিন নৌ-ক্যাডেটের কমান্ডার! ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋদ্ধি

বাংলা হান্ট ডেস্ক: মাত্র ১৭ বছর বয়সে মার্কিন নৌসেনার (US Navy) নেতৃত্বে ঋদ্ধি চৌহান। এই বয়সে যখন অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী স্কুল, পরীক্ষা কিংবা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋদ্ধি চৌহান (Ridhi Chauhan) নিজের নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এক অনন্য নজির গড়েছেন। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত বেঞ্জামিন এন. কার্দোজো হাইস্কুলের এই মেধাবী ছাত্রী বর্তমানে স্কুলের ‘নেভি জুনিয়র রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কর্পস’ (NJROTC)-এর সর্বোচ্চ পদ ‘ব্যাটালিয়ন কমান্ডিং অফিসার’-এর দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকে তিনি প্রায় ৩০০ জন মার্কিন নৌ-ক্যাডেটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এত অল্প বয়সে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ প্রজন্মের জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর এই কৃতিত্ব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই মার্কিন নৌ (US Navy)-ক্যাডেটের কমান্ডার হয়ে নজি গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋদ্ধি:
সংবাদসংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋদ্ধি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘নেভাল অ্যাকাডেমি প্রিপারেটরি স্কুল’-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মার্কিন নৌবাহিনীর কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্নের আরও কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। স্কুলের প্রথম বর্ষে পড়ার সময় নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি এনজেআরওটিসি প্রোগ্রামে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে অ্যাকাডেমিক কমান্ডার, স্টেম কমান্ডার, প্লাটুন লিডার ও ইন্সপেকশন কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই আজ তিনি ব্যাটালিয়নের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আসনে পৌঁছেছেন (US Navy)।
আরও পড়ুন: আর নয় মৃত্যুমিছিল! হরমুজে বাড়বে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
বর্তমানে ঋদ্ধির প্রতিদিনের জীবন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। সপ্তাহে চার দিন তাঁকে ভোর ৭টার আগেই স্কুলে পৌঁছাতে হয়। মূল ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই তিনি ক্যাডেটদের ড্রিল পরিচালনা করেন, প্রশিক্ষণ দেন এবং জুনিয়র সদস্যদের মেন্টরিং করেন। নেতৃত্বের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তিনি সমানভাবে সফল। অ্যাকাডেমিক কমান্ডার হিসেবে তিনি টানা দু’বছর নিজের স্কুলের দলকে একটি জাতীয় স্তরের একাডেমিক প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই ব্যাটালিয়নে প্রথমবারের মতো ‘সি-পার্চ’ প্রকল্পের মাধ্যমে জলের নিচে চলতে সক্ষম একটি রোবট তৈরি করা হয়। এই উদ্যোগ অন্য ক্যাডেটদের রোবোটিক্স, প্রকৌশল এবং উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।
ঋদ্ধির সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর পরিবারের সমর্থন এবং মূল্যবোধের শিক্ষা। তাঁর বাবা-মা রুচিকা ও দিলীপ চৌহানের পারিবারিক শিকড় ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে। ঋদ্ধি নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে আধ্যাত্মিক শিক্ষার মাধ্যমে। মহন্ত স্বামী মহারাজ এবং বিএপিএস স্বামীনারায়ণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে তিনি নম্রতা, সহানুভূতি, শৃঙ্খলা এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, একজন প্রকৃত নেতা শুধু নির্দেশ দেন না, বরং দলের প্রতিটি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেন। এই দর্শনই তাঁকে প্রতিটি দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছে শেখ হাসিনার! প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক?
প্রিপারেটরি প্রোগ্রাম শেষ করার পর ঋদ্ধির পরবর্তী লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল নেভাল অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে মার্কিন নৌবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়া। তাঁর এই অসাধারণ যাত্রাপথ প্রমাণ করে, বয়স কখনও সাফল্যের মাপকাঠি নয়; ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের এমন এক উদাহরণ তৈরি করেছেন, যা বিশ্বের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোরীর সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের নয়, বিশ্বজুড়ে ভারতীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গর্বের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে (US Navy)।




