সর্বনাশ! অনিল আম্বানির সংস্থার সার্ভার হ্যাক, ভারতের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের গোপন তথ্য ফাঁস ডার্ক ওয়েবে

সবদিক নিউজ:ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিকাঠামোকে ঘিরে বড়সড় সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৯ হাজার সংবেদনশীল নথি ডার্ক ওয়েবে (Dark Web) ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করেছে কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ (World Leaks)। হ্যাকারদের দাবি, সাইবার হামলার মাধ্যমে তারা এই নথিগুলি সংগ্রহ করেছে এবং এর মধ্যে পরমাণু কেন্দ্রের পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত নকশা, যন্ত্রাংশ, সরবরাহ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এই দাবি সামনে আসতেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ‘ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমারজেন্সি রেসপন্স টিম’ (CERT-In)। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি তদন্তে এই তথ্য ফাঁসের সমস্ত দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের গোপন তথ্য ফাঁস ডার্ক ওয়েবে (England)
ওয়ার্ল্ড লিকসের দাবি, তারা র্যানসমওয়্যার হামলার মাধ্যমে কুদানকুলাম প্রকল্পের ঠিকাদার সংস্থা অনিল আম্বানির রিলায়েন্স এডিএজি-র একটি সার্ভারে প্রবেশ করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। হ্যাকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে রয়েছে পরমাণু কেন্দ্রের বিভিন্ন ইউনিটের স্থাপত্য নকশা, অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যবস্থা, যন্ত্রাংশের প্রযুক্তিগত বিবরণ, সরবরাহকারীদের তথ্য এবং কিছু নিরাপত্তা-সম্পর্কিত নথিও। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে রিলায়েন্স এডিএজি জানিয়েছে, তাদের ডেটা সেন্টারের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘ইয়োট্টা’-র পরিচালিত একটি সার্ভারে সীমিত পরিসরে তথ্যভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। তবে ঠিক কোন কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ৩০০ মার্কিন নৌ-ক্যাডেটের কমান্ডার! ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋদ্ধি
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (NTI)-এর সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ। তাঁর মতে, পরমাণু অবকাঠামো সংক্রান্ত তথ্য যদি অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। এনটিআই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরমাণু নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সাইবার সুরক্ষা জোরদারের পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
হ্যাকার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকসের দাবি অনুযায়ী, তাদের ওয়েবসাইটে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর প্রায় ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ফাইলকে তারা ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি। অতীতে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিশ্বের একাধিক বড় কর্পোরেট সংস্থার ওপর সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করে মুক্তিপণ দাবি করাই এই ধরনের র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠীর প্রধান কৌশল। ফলে এই ঘটনার পর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলির সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আর নয় মৃত্যুমিছিল! হরমুজে বাড়বে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির অন্যতম। ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট নির্মাণের দায়িত্ব পায় রিলায়েন্স এডিএজি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এই দুটি ইউনিট চালু হলে অতিরিক্ত প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে ঘিরে সাইবার হামলার অভিযোগ সামনে আসায় কেন্দ্র বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তথ্য ফাঁসের প্রকৃত পরিমাণ, তার প্রভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলিতে সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে (Dark Web) ।




