রাজনীতিতে প্রসেনজিত? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তুঙ্গে জল্পনা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ, আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক—এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে জল্পনার পারদ আরও চড়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগৎ—সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন, এই সাক্ষাৎগুলির নেপথ্যে কি শুধুই সৌজন্য, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ?
প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee) রাজনীতি যোগ চর্চা
সোমবার বিকেলে বালিগঞ্জে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় পনেরো মিনিটের এই বৈঠকের পর থেকেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের প্রশ্ন, এবার কি তবে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গেই রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে চলেছেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ? সেই আলোচনা থামার আগেই নতুন করে চর্চায় এলেন তিনি । শাহী সাক্ষাতের মাত্র তিন দিনের মাথায় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রসেনজিত। হঠাৎ এই সাক্ষাতের কারণ কী, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানোর বিষয়ে বিজেপি ভাবনাচিন্তা করতে পারে। কারণ, সোমবারই রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়েছে। তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের ফলে ফাঁকা হওয়া আসনগুলিতে আগামী ২৪ জুলাই ভোট গ্রহণ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি আসন বিজেপির দখলে যেতে পারে। সেই সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রসেনজিতের বারবার বৈঠক কি সত্যিই কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যসভার সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার সমীকরণ? বৃহস্পতিবার নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনা যেন আরও জোরালো হয়েছে।
আরও পড়ুন :পদোন্নতি নিয়ে কাটল জট ! সরকারি কর্মীদের জন্য বড় নির্দেশিকা জারি রাজ্যের
প্রসঙ্গত, এর আগেও নির্বাচনের আবহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। চলতি বছরে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পর থেকে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আরও বেড়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। এরপর থেকেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও অভিনেতা বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনরকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।



