সময়ের আগেই কেরলে বর্ষার এন্ট্রি, চড়া রোদের অস্বস্তির মাঝেই আজ বিকেলে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী

সবদিক নিউজ: মে মাসের প্রথমার্ধ শান্ত থাকলেও চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র দাবদাহ, যার জেরে কার্যত নাজেহাল আমজনতা। তবে এই চরম অস্বস্তির মাঝেই রাজ্যবাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ, অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ধেয়ে আসতে পারে মরসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমে কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে এই দুর্যোগে সাময়িক স্বস্তি মিললেও আগামী সাতদিন ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। চলতি সপ্তাহে কলকাতার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ইতিমধ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে; বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে এবং শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এরই মধ্যে মৌসম ভবন জানিয়েছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করে গেছে এবং আগামী ২৬ মে—নির্ধারিত সময়ের প্রায় ছয় দিন আগেই—কেরলে পা রাখতে চলেছে বর্ষা। সাধারণত ৮ থেকে ১০ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা ঢোকার নিয়ম থাকলেও, অনুকূল পরিস্থিতির অভাবে অনেক সময়ই তা পিছিয়ে যায়। চলতি বছর কেরলে সময়ের আগে বর্ষা ঢুকলেও, বাংলাতে ঠিক কবে নাগাদ বর্ষার স্পেল শুরু হবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি আবহাওয়া দফতর।



