হবে আরও কর্মী ছাঁটাই! কারা হারাবেন চাকরি? রাখঢাক না রেখে জানালেন টুইটারের সহ প্রতিষ্ঠাতা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বলা হয় এই দুনিয়ায় সবথেকে বুদ্ধিমান প্রাণী হচ্ছে মানুষ। এরকম হাজার হাজার যুগান্তকারী বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েই আজকের এই পৃথিবী গড়ে তুলেছে মানুষ। সেরকমই এক অন্যতম বুদ্ধির পরিচয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানুষের মাথা থেকে জন্ম নেওয়া এই AI-ই এখন হাজার হাজার মানুষের কাজ (Layoff) খেতে বসেছে। একজন-দু’জন নয়, একধাক্কায় হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই—বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্পোরেট দুনিয়ায় এখন এটাই নতুন বাস্তব। ওরাকেল থেকে শুরু করে Block Inc.—একাধিক বড় সংস্থা পরপর কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। এই পরিস্থিতিতে অন্য সংস্থাগুলিও কি একই পথে হাঁটবে, সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হল X-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডর্সির সাম্প্রতিক মন্তব্যে।
ফের বহুজাতিক সংস্থা গুলিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের (Layoff) আশঙ্কা!
সম্প্রতি ব্লক প্রায় ৪০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেই জ্যাক ডর্সি জানিয়েছেন, সংস্থার অনেক পদই এখন অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মিডল ম্যানেজমেন্ট স্তরে কর্মরতদের ভূমিকা দ্রুত কমে আসছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই স্তরের বেশিরভাগ কাজ সহজেই যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা সম্ভব। ফলে মানুষের বদলে AI ব্যবহারে খরচ কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গে মেগা বৈঠক! ভারতকে আমন্ত্রণ জানাল ব্রিটেন, দূরে রইল আমেরিকা
AI কেন মানুষের তুলনায় এগিয়ে, তা নিয়ে Sequoia Capital-এর রোয়েলফ বোথার সঙ্গে একটি বিশদ ব্লগও লিখেছেন ডর্সি। সেখানে ‘ইনটেলিজেন্স নেটিভ’ সংস্থার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে AI-ই হবে কেন্দ্রবিন্দু। এই মডেলে কর্মীরা সরাসরি AI সিস্টেম থেকে নির্দেশ পাবেন, কিছু অভিজ্ঞ কর্মী প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও নেবে AI।
ডর্সির মতে, কম সংখ্যক সুপারভাইজার থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হয় এবং সংস্থার উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তিনি আরও দাবি করেছেন, AI সংযোগ রক্ষা, তদারকি এবং সমন্বয়ের মতো কাজ মানুষের তুলনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। ব্লকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর সংস্থার শেয়ারদর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াও এই কৌশলের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: অবিলম্বে শোধ করতে হবে কোটি কোটি ডলারের বকেয়া! কাঙাল পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি চিনের
এর আগেও AI-নির্ভর কর্মসংস্কৃতি নিয়ে মত প্রকাশ করেছিলেন ডর্সি। তাঁর মতে, রিমোট ওয়ার্ক বা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের যুগে প্রচলিত ম্যানেজমেন্ট কাঠামো ধরে রাখার প্রয়োজন কমে গিয়েছে। বরং কম স্তরের হায়ারার্কি ও AI নির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সংস্থাগুলি দ্রুত ও দক্ষভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা বাড়লে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের (Layoff) উপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।



