হারের ধাক্কা পর ফের সক্রিয় অভিষেক, শনিবার থেকেই নয়া কর্মসূচী শুরু

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ছাব্বিশের বিধানসভায় তৃণমূল শিবিরের পরাজয়ের পর কার্যত নিরব ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবার আবারও রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হতে চলেছেন অভিষেক। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর তাঁকে নিয়ে যেমন দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনই বিরোধীদের তরফেও আক্রমণ সহ্য করত সেই আবহেই এবার সরাসরি মাঠে নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চলেছেন তিনি। শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি।
রাজনৈতিক ময়দানের ফের সক্রিয় অভিষেক (Abhishek Banerjee)
তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারেন অভিষেক। প্রথম দিনেই তাঁর কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সোনারপুর দক্ষিণে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের ও বেলেঘাটায় আক্রান্ত বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক নামক দলীয় কর্মীর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত আড়ালেই ছিলেন অভিষেক। যদিও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। এমনকি ফলতার পুনর্নির্বাচনেও প্রচারে অংশ নেননি তিনি। দলের খারাপ ফলের জন্য অনেকেই সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ী করেছেন। যাঁদের একসময় ‘অভিষেক ঘনিষ্ঠ’ বলে মনে করা হত, তাঁদের অনেকেও এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন।
এদিকে, ভোটের পর বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠলেও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল কর্মীদের হামলার অভিযোগের পরেও অভিষেক রাস্তায় না নামায়, প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই কারণেই হয়তো প্রথম কর্মসূচির তালিকায় বেলেঘাটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিষেকের নিরাপত্তা কমানোর পর এই প্রথম কালীঘাটের বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। ফলে তাঁর এই সফর ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন : অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা সরকারের, শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করলেন অমিত শাহ
এই কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেন, “আমরা সরকারে আসার পর কোনও হিংসায় মদত দিইনি। ২০২১-এর ভোটের পর যা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হয়নি। তার পরেও সাধারণ মানুষ তৃণমূলের নেতাদের মারধর করেছেন। আমরা দেখেছি অভিষেকের বাড়ির সামনেও মানুষ ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিষেকের এই সফরের জন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় ওঁকেই নিতে হবে।” তবে সব বিতর্কের মাঝেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সফরের মাধ্যমে সংগঠনের ভিতরে নতুন করে বার্তা দিতে চাইছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে ধাক্কার পর তৃণমূলের কর্মীদের মনোবল ফেরাতে তাঁর এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।




