‘২১ জুলাইয়ের আগে লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান’, কোয়েলের ইস্তফার পর ক্ষোভ প্রকাশ মমতার

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যে সিংহাসনচ্যুত হওয়ার পর থেকেই হুড়মুড়িয়ে দল ছাড়ছেন একের পর এক তৃণমূল (TMC) নেতাকর্মীরা। মাত্র একদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা মদন মিত্র। তার ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই আজ বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার পদে ইস্তফা দিয়েই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সাথে মিটিং সেরেছেন কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। তারপরেই আজ তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখান থেকে এদিন স্পষ্ট ভাষায় দলবদলুদের দল ছাড়ার ‘ডেডলাইন ‘ বেঁধে নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
কোয়েল মল্লিক পদত্যাগের পরেই ডেডলাইন জানালেন মমতা
নাম না করেই মন্তব্য করলেন কোয়েল মল্লিকের দল ছাড়ার প্রসঙ্গেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘আজ আরও একজন এমপি তথা চলচ্চিত্র শিল্পী, ভালো শিল্পী তাঁকে আমি সম্মান করি, তিনি গিয়েছিলেন বিজেপির কোন একটা নেতার সাথে মিটিং করে রিজাইন করতে। আমি আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। ধন্যবাদ জানাই তাঁকে। আজকে উনি সশরীরে জমা দিয়ে গিয়েছেন।’
এরপরেই দল ছাড়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে মমতা বললেন, ‘যাদের যাদের যাওয়ার আছে আরও, বিজেপির চাপে, পুলিশের চাপে, মাথা নত করার চাপে, কোর্টের কেসের চাপে ইডির চাপে,সিবিআইয়ের চাপে, ভয়ংকর ভয়ংকর সিআইডি কেসের চাপে, তাদের অনুরোধ করবো প্লিজ একুশে জুলাই-এর আগে যার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিন। যারা যারা বাঁচতে চান জীবনে, লোটা কম্বল নিয়ে তারা দয়া করে যেখানে ইচ্ছে যান। বিজেপির কথা শুনে, দয়া করে আমরা যে দলটি তৈরি করেছি তাকে কলঙ্কলিপ্ত করবেন না।’
আরও পড়ুনঃ ‘শিক্ষা হয়েছে… ২০০৪-এ একা পারলে ২০২৬-এও ফের শুরু করতে পারব’, ভিডিও বার্তা মমতার
তৃণমূলকর্মীদের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ঘুরিয়ে কটাক্ষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
ভারতীয় সংবিধানের ফ্রিডম অফ মুভমেন্ট, ফ্রিডম অফ স্পিকিং, আর ফ্রিডম অফ রাইট-এর কথা উল্লেখ করে তৃণমূলকর্মীদের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তকে এদিন ঘুরিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।একইসাথে অবশ্য জোর গলায় মমতা জানিয়ে দেন, ‘তাতে আমরা একটুও দুর্বল হবো না।’
একুশে জুলাই-এর শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে এদিন তৃণমূলনেত্রী বললেন, ‘আমি শুনেছি একুশে জুলাই-এর যে শহীদ পরিবারগুলো ছিলেন পুলিশ থেকে তাঁদের ফোন করে বলা হচ্ছে, এদিকে নয় ওদিকে যান।’ পরক্ষণেই অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলি আমরা তো খুবই ক্ষুদ্র দল, আমরা চল্লিশ বছর ধরে এই পরিবারগুলোকে চাকরি থেকে শুরু করে যতটুকু আমাদের সাহায্য করার করেছি। যেদিন ঘটনা ঘটেছিল সেদিন আমাদের কোন ক্ষমতা ছিল না।’
আরও পড়ুনঃ ‘জেনে শুনে রোগ মাথায় চড়তে দিয়েছেন মমতা!’ ভালো-খারাপ তৃণমূল নিয়ে মাথাব্যথা নেই: দিলীপ ঘোষ
শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে মমতা এদিন আরও বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা শহীদ পরিবারকে ডাকি এবং সম্মান জানাই। এবার যদি ভয়ে, অর্থের পরিসীমা ছাড়িয়ে কেউ আপনাদের সাহায্য করতে চান এটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু মনে রাখবেন ৪০ বছর ধরে যারা প্রতিবার আমাদের প্রোগ্রামে এসেছেন, আজকে দিন বদলেছে সাময়িক, ভয় দেখাচ্ছে সাময়িক, সন্ত্রাস দেখাচ্ছে সাময়িক, টাকার লোভ দেখাচ্ছে সাময়িক, এজেন্সির লোক দেখাচ্ছে সাময়িক আমরা কিন্তু অমায়িক। আমরা আপনাদের ভুল বুঝছি না, আমরা বুঝতে পারছি আপনারা অনেক ঘেরাটোপে আছেন। আপনারা আমাদের সাথে এ বছরটা থাকলেন বা না থাকলেন হৃদয় জুড়ে আছেন।’




