৮.২ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভাঙল ঘরবাড়ি! এশিয়ার এই দেশে জারি সুনামি সতর্কতা

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোমবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্ডানাও দ্বীপ। যার জেরে জারি করা হল সুনামি সতর্কবার্তাও (Tsunami Warning)। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৮.২। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আচমকা মাটি কেঁপে উঠতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। ঘুম ভেঙে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। বহু জায়গায় বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর সামনে আসেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সমীক্ষা শুরু হয়েছে।
৮.২ মাত্রার ভূমিকম্পের জেরে ফিলিপিন্সে জারি সুনামি সতর্কবার্তা (Tsunami Warning):
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কম্পন অনুভূত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে হালকা দুলুনি অনুভূত হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা প্রবল আকার ধারণ করে। অনেকের বাড়ির আসবাবপত্র উল্টে যায়, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু পুরনো নির্মাণ ভেঙে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, কয়েকটি এলাকায় দোকান ও বাড়ি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে। আতঙ্কিত মানুষজন খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন এবং প্রশাসনের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ঘরে ফিরতে অস্বীকার করেন (Tsunami Warning)।
আরও পড়ুন: বারাণসী শহরের বাইরে সরবে মাছ-মাংসের দোকান! বাড়ানো হবে ফলের বাজার, নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। GFZ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগভীর গভীরতায় উৎপন্ন শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সুনামির ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। প্রথমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.৩ বলে জানানো হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে তা সংশোধন করে ৮.২ করা হয়। ফিলিপিন্সের আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপিন্স সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় ধরনের আফটারশক বা পরাঘাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। জরুরি পরিষেবা, সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাও সমুদ্রপৃষ্ঠের গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে যাতে কেউ গুজবে কান না দেন এবং শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলেন।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে মমতা, আর সেদিনই বড় ধাক্কার আশঙ্কা, ইস্তফার পথে দুই বড় মুখ!
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপিন্স পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রায়শই সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। এর আগে সম্প্রতি ভুটানে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যার প্রভাব ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল এবং চিনের কিছু অংশেও পড়েছিল। তবে মিন্ডানাওয়ের এই ৮.২ মাত্রার ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক সংস্থাগুলিও, আর সম্ভাব্য সুনামি (Tsunami Warning) ও আফটারশকের আশঙ্কায় এখনও চরম সতর্কতায় রয়েছে গোটা অঞ্চল।




