0%

E85 জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি! পুরনো গাড়ি কি আর চলবে না? জানাল কেন্দ্র – সবদিক

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশে E85 জ্বালানি চালু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়াতে শুরু করেছে। অনেকেই দাবি করছেন, শীঘ্রই সাধারণ পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সব গাড়িচালককে বাধ্যতামূলকভাবে E85 জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। তবে এই জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, E85 কোনওভাবেই সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ির বিকল্প নয়। এটি শুধুমাত্র বিশেষ ধরনের ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকল (FFV)-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

– বিজ্ঞাপন –

E85 কী?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক E85 জ্বালানি বাজারে আনে। বর্তমানে ব্যবহৃত E20 পেট্রোলে যেখানে সর্বাধিক ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল থাকে, সেখানে E85-এ ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং মাত্র ১৪ থেকে ১৯ শতাংশ পেট্রোল মেশানো হয়।

এই কারণেই E85 এবং E20 সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের জ্বালানি, যা ভিন্ন প্রযুক্তির গাড়ির জন্য তৈরি।

পুরনো গাড়িতে কি E85 ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর হল— না।

সাধারণ পেট্রোলচালিত বা E20-সামঞ্জস্যপূর্ণ গাড়িতে E85 ব্যবহার করা যাবে না। এই জ্বালানি শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির বিশেষ গাড়ির জন্য উপযোগী। ফলে বর্তমানে যারা সাধারণ পেট্রোল বা E20-চালিত গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাঁদের কোনও উদ্বেগের কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে E85-এর দামও তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। দিল্লিতে প্রতি লিটার E85-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২.১২ টাকা, যা সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম।

কী বললেন হরদীপ সিং পুরী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তির জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, E85 চালু হওয়ার অর্থ এই নয় যে E20 বা সাধারণ পেট্রোলচালিত গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “আপনার E20 গাড়ি দীর্ঘদিন চলবে। E20 এবং E85 সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের জ্বালানি, যা আলাদা ধরনের গাড়ির জন্য তৈরি। E85 বাজারে আসার অর্থ এই নয় যে E20 বা পেট্রোলচালিত গাড়ির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।”

মন্ত্রী আরও জানান, E85 বিক্রি করা পাম্পগুলিতে বড় অক্ষরে লেখা থাকবে— “শুধুমাত্র E85-সামঞ্জস্যপূর্ণ গাড়ির জন্য”।

পরিবেশ ও কৃষিক্ষেত্রে কী লাভ?

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, E85 ব্যবহারের ফলে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো সম্ভব।

হরদীপ সিং পুরীর মতে, এই উদ্যোগ দেশের কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করবে, অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমাবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ব্রাজিলে বহু বছর ধরেই E85 জ্বালানির ব্যবহার চলছে। ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়িগুলি E20 থেকে E100 পর্যন্ত বিভিন্ন ইথানল-পেট্রোল মিশ্রণে চলতে সক্ষম।

কেন্দ্রের মতে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ক্ষেত্রেও E85 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker