কান ধরে ওঠবস করেও মিলল না রেহাই! গুমায় রেশন দোকানে মন্ত্রীর আচমকা হানায় গ্রেফতার ডিলার

সবদিক নিউজ: খাদ্যমন্ত্রীর আচমকা অভিযানে ফের সামনে এল রেশন বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ। উপভোক্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মাসের পর মাস রেশন না দেওয়া এবং গ্রাহকদের কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ পেয়ে সোমবার হাবড়ার গুমা এলাকায় একটি রেশন গুদামে হানা দেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মন্ত্রীর সামনে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চাইলেও শেষরক্ষা হয়নি অভিযুক্ত ডিলার শ্যামল সাহার। মন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ। অশোকনগর বিধানসভার গুমা এলাকায় রেশন দোকান পরিচালনা করেন শ্যামল সাহা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর দোকানে অনিয়ম চলছিল। কখনও চার-পাঁচ দিন, আবার কখনও কয়েক মাস ধরে রেশন দেওয়া হত না। কারও রেশন কার্ডও দীর্ঘদিন আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই শ্যামলের গুদামে পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী। তাঁকে সামনে পেয়েই ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় উপভোক্তারা। দীপা রায়, গোপা মণ্ডল-সহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রেশন চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হত। একজনের দাবি, প্রায় ছ’মাস ধরে তাঁর রেশন কার্ড আটকে রাখা হয়েছে। বারবার চাইলেও ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে তাঁকে ঘোরানো হয়েছে। আরও এক উপভোক্তার অভিযোগ, রেশনের সামগ্রী তাঁরা বাইরে বিক্রি করেন—এই দাবি তুলে তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, পরিবারে শিশু রয়েছে এবং সরকারি রেশন তাঁদের প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন রেশন ডিলার শ্যামল সাহা। তাঁর দাবি, তিনি নিয়মিত রেশন দেন। কয়েক দিন ব্যক্তিগত কাজে বাইরে থাকায় ওই সময়ে যাঁরা দোকানে এসেছিলেন, তাঁরা রেশন পাননি। তাঁর আরও দাবি, কয়েকজন উপভোক্তা রেশন না নিয়ে তার পরিবর্তে টাকা চান। তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ডিলারের বক্তব্য শোনার পর গুদামে মজুত খাদ্যসামগ্রী নিজে পরীক্ষা করেন খাদ্যমন্ত্রী। পুরনো সামগ্রী মজুত থাকার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি রেশন বণ্টনের নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হয়।
এরপর শ্যামলকে ডেকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন অশোক কীর্তনিয়া। তিনি বলেন, “আমি শুধু মন্ত্রী নই, সাধারণ মানুষের মতো আমিও একজন নাগরিক। আপনার গুদামে কয়েক মাসের পুরনো সামগ্রী পড়ে রয়েছে। উপভোক্তারা ঠিকমতো রেশন পাচ্ছেন না কেন?” মন্ত্রীর ধমকের মুখে কান ধরে ওঠবস করেন শ্যামল। নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও চান তিনি। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। খাদ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে গ্রেপ্তার করে অশোকনগর থানার পুলিশ। পরে গুদামটি সিল করে দেওয়া হয়। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রেশন দোকানে আচমকা অভিযান চালাচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। রেশন ব্যবস্থায় অনিয়ম, উপভোক্তাদের বঞ্চিত করা কিংবা সরকারি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। গুমার অভিযানেও সেই কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল।



