“কেষ্টর চ্যালা তো…, তৃণমূলটাই খারাপ”, টুলু মন্ডল প্রসঙ্গে অনুব্রতকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

বাংলা হান্ট ডেস্ক: টানা ২৯ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ১৫ কিলো সোনা সহ নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। প্রসঙ্গত প্রাক্তন এই বাস চালক তথা পাথর ব্যবসায়ী হলেন অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) আত্মীয়। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
মিনার মন্ডল গ্রেফতারিতে দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
মিনার মন্ডলের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘কেষ্ট মণ্ডলের চ্যালা তো এরকমই হবে।সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা যদি ওনার বিরুদ্ধে কমপ্লেন থাকে, তাহলে ১০০-২০০ কোটি টাকা তো চ্যালারা হবেই। কীভাবে লুঠ হয়েছে ! কেন বীরভূম গরিব, কেন মুর্শিদাবাদ গরিব? সারা দেশের দৃষ্টিতে এগুলো গরিব জেলা। কেন গরিব বোঝা যাচ্ছে। কিছু লোক ওখানকার সম্পদ লুঠ করেছে। সাধারণ জনতা গরিব আছে। শুরু হয়ে গেছে খোঁজ-খবর বিচার। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু বেরোবে। তার যোগ্য শাস্তিও সবাই পাবে।’
অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ টুলু মন্ডল বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ বলে পরিচিত। নিজের মেয়ের বিয়েতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন তিনি। তার বিরাট বৈভব, অর্থ প্রতিপত্তি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ আজ বললেন, ‘টুলু মণ্ডল বহুত বিখ্যাত ব্যক্তি। তাকে সবাই চেনে। কয়লা খাদান এবং কোল বেল্টে সে খুব পরিচিত নাম। বহু নেতাকে সে খুশি করত। আর নিজেও করে খেত। তৃণমূল এরকম সবজায়গায় এজেন্ট ঠিক করেছিল। পুলিশও করেছে এদের। এরা কালেক্ট করে পুলিশের হাতে দিত। সেটা নবান্ন এবং কালীঘাট পর্যন্ত আসত। আজকে সমস্ত লিঙ্ক কেটে গেছে। সমস্ত তথ্য সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে এখন সেই পুলিশই ব্যাবস্থা নিচ্ছে।’
আরও পড়ুনঃ আগস্টে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? বাড়ি বসে কয়েক মিনিটে জানুন
তৃণমূলটাই খারাপ, তাই লোকে বিদায় দিয়েছে : দিলীপ ঘোষ
সম্প্রতি শিবির বদলেছেন তৃণমূল নেতা তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গতকাল ইডির অফিসে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এপ্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন সাফ বললেন, ‘আমি ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল বলে কিছু মনে করি না। তৃণমূলটাই খারাপ, তাই তো লোকে বিদায় দিয়েছে। আর যেখানেই যাক স্বর্গে গেলেও কেউ পার পাবে না, যদি অন্যায় করে থাকে।’
প্রসঙ্গত রাজ্যের পালা বদলের পর কাটমানি আদায় থেকে শুরু করে তোলাবাজি বন্ধ হতেই বাড়তে শুরু করেছে রাজস্ব আদায়। এপ্রসঙ্গে দিলীপ বাবু বললেন, ‘এতদিন পর্যন্ত কোথাও আদায় করাই হতো না। পঞ্চায়েতে গেলে দেখা যাবে বাড়ির ট্যাক্স দিতে গিয়ে বলছে হচ্ছে না। তার লিঙ্ক কোথায়, কে চালায় ঠিক নেই। সব ইচ্ছা করে করা হয়েছে। সবজায়গায় সেটিং করে রেখেছিল। এসব বন্ধ হতেই সরকারের ঘরে টাকা আসতে শুরু করেছে। সেজন্য আগে উন্নয়ন থেকে অনেক দূরে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, এবার গতি আসছে।’
আরও পড়ুনঃ বিক্রি বেড়ে দ্বিগুণ! E20 ঘিরে উদ্বেগের আবহে বাড়ছে ইথানল-ফ্রি পেট্রোলের চাহিদা
প্রসঙ্গত শেষমেশ ইস্কনের মিডডে মিলেও ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এপ্রসঙ্গে বিরোধী নেতা কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করেছেন, ‘চাপে পড়ে ডিম দেওয়া হচ্ছে।’ এপ্রসঙ্গে কড়া ভাষায় দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘ইস্কন ঠিক করবে না কী খাওয়ানো হবে। তারা একটা এজেন্সি। আগেও তো ছিল, সেই ডিম তো নেতারা খেয়ে নিত। তখন কিছু বলেননি কেন? আর যদি সরকার মনে করে কম পয়সায় পুষ্টির জন্য বাচ্চাদের ডিম খাওয়ানো হবে। ডিম তো আমরা হরিণঘাটা থেকে সাপ্লাই করি। কোন এজেন্সি ঠিক করবে না কি খাওয়ানো হবে।’




