Mohammad Bazar Two Sub-Inspectors clozed

বীরভূমে টুলু মণ্ডলের বেআইনি কারবারের ছড়াছড়ি। ‘পাথর সম্রাট’-এর দুর্নীতির বৃক্ষ আকাশছোঁয়া। টুলু বেপাত্তা। একে একে ধরা পড়ছেন শাগরেদরা। জেলাজুড়ে ‘অবৈধ’ কারবারের বিরুদ্ধে অভিযানের মাঝেই এবার মহম্মদবাজারের (Mohammad Bazar) দুই সাব ইন্সপেক্টরকে ক্লোজ করা হল। দুই সাব-ইন্সপেক্টর সানাউর হোসেন ও আবদুল আলিমকে ক্লোজ করে সিউড়ি পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। নেপথ্যে প্রশাসনিক কারণ নাকি টুলু-কানেকশন? জোর জল্পনা শুরু হয়েছে জেলায়।
প্রসঙ্গত, বীরভূমের মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির খাসতালুক। ঠিক যে সময় একে একে পাথর সম্রাটের দুর্নীতির পর্দাফাঁস হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের পিছনে রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল। জানা যায়, তৃণমূল আমলে পাথরের ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) জালিয়াতি করেই টুলু মণ্ডলের রকেটের গতিতে উত্থান। দিনমজুরির কাজ করতে করতেই গাড়িতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন টুলু। সেখান থেকে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কিনে নিজেই হাত পাকান পাথর পরিবহণের ব্যবসায়। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা বুঝতে পারেন, মহম্মদবাজারে মাটির তলায় পাথরের নয় বরং টাকার খনি রয়েছে। নিজের শিক্ষিত মাথাকে কাজে লাগিয়ে নেতাদের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সখ্যতার নিরিখে প্রথম স্থানে চলে আসেন টুলু মণ্ডল। ২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।
দিনমজুর থেকে পাথর খাদানের মালিক, যত দিন গেছে প্রতিপত্তি তড়তড়িয়ে বেড়েছে। বীরভূমের মতো এলাকায় টুলুর দুর্নীতির-মডেলে প্রশাসনের কোনও হাত ছিল না? বিজেপির একাংশের দাবি, গত ১৫ বছরে বীরভূমে পুলিশের চোখের সামনে লাগামছাড়া দুর্নীতি চলেছে দিনের পর দিন। আর প্রশাসনের কর্তারা চোখ বুজে দুর্নীতির আড়ালে কলকাঠি নেড়ে গেছেন। মহম্মদবাজারর পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও আঙুল উঠতে শুরু করে ইদানীং। এরপরই দুই এসআইকে ক্লোজ করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, ঠিক যে সময়ে টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে তৎপর প্রশাসন, ঠিক সেই আবহেই দুই আধিকারিককে ক্লোজ করা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
শেয়ার
লিংক



