Fake government job appointment letter worth lakhs of rupees, tmc leader arrested in bankura

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস, হাতে ভুয়ো নিয়োগপত্র, আর শেষে সর্বস্বান্ত পরিবার। এই অভিযোগেই গ্রেফতার করা হল গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা পল্লব পাণ্ডে-কে। রবিবার ধৃতকে বাঁকুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনাকে ঘিরে গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের এক বাসিন্দার ছেলেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পল্লব পাণ্ডে। অভিযোগ, ধাপে ধাপে তিন লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয় পরিবারের কাছ থেকে। এরপর ওই যুবকের হাতে একটি নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। পরিবারের দাবি, নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর যুবককে পুরুলিয়ার একটি দপ্তরে কাজে যোগ দিতেও বলা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ কাজ করার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিয়োগপত্রটি যাচাই করে সেটিকে জাল বলে চিহ্নিত করে। তারপরই চাকরি চলে যায় ওই যুবকের। ঘটনায় কার্যত ভেঙে পড়ে পরিবারটি।
অভিযোগ, ধাপে ধাপে তিন লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয় পরিবারের কাছ থেকে। এরপর ওই যুবকের হাতে একটি নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ”চাকরির আশায় ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হতে হল।” ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চাকরির নাম করে প্রভাব বিস্তার করছিলেন পল্লব পাণ্ডে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা জঙ্গলমহলে তৃণমূলের “চাকরি বাণিজ্যের সংস্কৃতি”-রই আর এক উদাহরণ। বিজেপি নেতৃত্বের কটাক্ষ, “চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বিক্রি করা হচ্ছিল। এবার সেই মুখোশ খুলতে শুরু করেছে।” যদিও তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকা লেনদেন, ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে এদিনই বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং তিন লক্ষ টাকা আদায়ের চাপ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাঁকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিংকি চক্রবর্তীর স্বামী তথা তৃণমূল নেতা বাপি চক্রবর্তীকে। জানা যায়, এই ঘটনায় বাঁকুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রভাতরঞ্জন গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে তাঁকে ভয় দেখিয়ে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয় এবং তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ বাপি চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে।
শেয়ার
লিংক



