0%

Kargil warrior of Suri sent son to Indian Army

যুদ্ধের রোমাঞ্চ নয়, বরং যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরলেন কার্গিল যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী মৃণালকান্তি দাস। আজ, রবিবার গোটা দেশ কারগিল বিজয় দিবস পালন করছে। এমন দিনে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে মৃণালকান্তি দাস বলেন, যুদ্ধ কখনই কাম্য নয়। কারণ যুদ্ধ মানেই নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, বিপুল অর্থব্যয় এবং দেশের অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ।

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে লাগাতার ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে মৃণালকান্তি দাস বলেন, ভারতীয় সেনার সক্ষমতার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁর দাবি, যুদ্ধ বাধলে পাকিস্তান সেনা দীর্ঘক্ষণ টিকতে পারবে না। 

সিউড়ির হাটজনবাজারের বাসিন্দা মৃণালকান্তি দাস ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার কর্পস অফ সিগন্যালস-এ নায়েব সুবেদার সিগন্যাল অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন তাঁর পোস্টিং ছিল জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুরে। সেখান থেকে বিশেষ যোগাযোগ বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাঁকে কারগিল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের পান্দ্রাস এলাকায় পাঠানো হয়। সেখানে টানা ১৩ দিন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃণালকান্তি দাস জানান, প্রথম কয়েকদিন প্রবল আতঙ্কে কেটেছিল। খেতে বসার মাঝেই গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে যেত। মনে হতো, আর হয়তো জীবিত ফেরা হবে না। তবে সময়ের সঙ্গে ভয় কাটিয়ে দায়িত্বই হয়ে ওঠে একমাত্র লক্ষ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও মেস না থাকায় নিজেদেরই রান্না করতে হতো। প্রথমদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরাই তাঁদের রুটি ও অরহড় ডাল খেতে দিতেন। সেই গ্রামবাসীদের কাছ থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, সাধারণ কাশ্মীরিরাও যুদ্ধ চান না, জঙ্গিদের ভয়ে বাধ্য হয়েই অনেক কিছু মেনে নিতে হয়।

সিউড়ির হাটজনবাজারের বাসিন্দা মৃণালকান্তি দাস।

মৃণালকান্তি দাস জানান, যুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট মেনে চলতে হত। রাতে কোনও আলো জ্বালানোর উপায় ছিল না। গাড়ির জানালাও কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হত, যাতে শত্রুপক্ষ অবস্থান বুঝতে না পারে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের ময়দানে মেনে চলতে হতো একাধিক নিয়মও। সেই সময়ের পরিস্থিতি এখনও মনে পড়লে শিউরে ওঠেন মৃণালকান্তি দাস।

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে লাগাতার ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে মৃণালকান্তি দাস জানান, ভারতীয় সেনার সক্ষমতার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তাঁর দাবি, যুদ্ধ বাধলে পাকিস্তান সেনা দীর্ঘক্ষণ টিকতে পারবে না। তবে তাঁর প্রত্যাশা একটাই—যুদ্ধ যেন না হয়। কারণ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ মানুষকেই। তাঁর ছেলে বর্তমানে ভারতীয় সেনায় কর্মরত। তাই যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেশের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে।

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker