0%

‘পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়’, কার্গিল বিজয় দিবসে কড়া বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

AK Bangla 24×7 Digital: কার্গিল বিজয় দিবসের ২৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লাদাখের দ্রাস যুদ্ধ স্মৃতিসৌধ থেকে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রতিটি ‘শয়তানি’ ও ‘দুঃসাহসিক অপচেষ্টা’র এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তাদের কল্পনারও বাইরে।

কার্গিল যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ভাষণে রাজনাথ বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে তাদের রাষ্ট্রনীতির অংশ করে তুলেছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে আর কোনও পার্থক্য নেই। সেনাবাহিনী শুধু জঙ্গিদের রক্ষা করে না, বরং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতা রাষ্ট্রকে আর আলাদা করে দেখা হবে না।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে না। যদি কোনও আলোচনা হয়, তবে তা শুধুমাত্র পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়েই হবে, যা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

ভারত ও পাকিস্তানের উন্নয়নের ধারা তুলনা করে রাজনাথ বলেন, ভারত যখন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও পরিকাঠামো গঠনে মনোনিবেশ করেছে, তখন পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর তৈরিতে ব্যস্ত। তাঁর কথায়, ভারত ডেটা সেন্টার তৈরি করে, আর পাকিস্তান তৈরি করে সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র।

কার্গিল যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের যুদ্ধ শুধু সামরিক বিজয় ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, আত্মত্যাগ ও অদম্য মনোবলের বিশ্বস্বীকৃতি। তিনি কার্গিল বিজয়কে “ভারতমাতার মুকুটে খচিত এক হীরকখণ্ড” বলে উল্লেখ করেন।

রাজনাথ বলেন, পাকিস্তান ২৭ বছর আগে প্রতারণার মাধ্যমে কার্গিলের পাহাড়ি চূড়াগুলি দখল করেছিল। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের কাছে তারা পরাজিত হয়। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতীয় জওয়ানরা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দখল হওয়া প্রতিটি শৃঙ্গ পুনর্দখল করেছিলেন।

অন্যদিকে, রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘কার্গিল বিজয় দিবসে গোটা দেশ সেই বীর সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়, যাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অসাধারণ সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের দেশের প্রতি অটুট ভালোবাসা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’

প্রতি বছর ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের স্মরণে এই দিনটি উদযাপিত হয়। একইসঙ্গে দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া সেনা জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানানো হয়।

 

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker