অপারেশন সিঁদুর ২.০-র প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত! পাকিস্তানকে সতর্ক করে কী জানালেন সেনাপ্রধান?

সবদিক নিউজ:ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে ফের কড়া বার্তা দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) এখনও শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে আপাতদৃষ্টিতে সংঘর্ষবিরতি বা শত্রুতার সাময়িক অবসান বলা গেলেও ভারত কোনওভাবেই আত্মতুষ্টির পথে হাঁটছে না। বরং স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা—তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যতের যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সীমান্তে আপাত শান্তি থাকলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে।
পাকিস্তানকে অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) ২.০-র প্রস্তুতি নিয়ে হুঙ্কার ভারতের!
সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের স্মৃতি এখনও তাজা। গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফের জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনার পরই নয়াদিল্লি কড়া জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ৭ মে ভোররাতে শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটির উপর নির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত হামলা চালায়। সরকারি সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে মোট নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সইতে হয়েছে পণের অত্যাচার! অদম্য জেদে চতুর্থ প্রচেষ্টায় UPSC-তে সফল, উদ্বুদ্ধ করবে কোমলের কাহিনি
ভারতের অভিযানের পর পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেষ্টা করে। সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা, সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতায় সেই হামলাগুলি প্রতিহত করা সম্ভব হয়। শুধু প্রতিরোধই নয়, ভারত পাল্টা জবাবও দেয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ভারতীয় বাহিনীর প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বিমানঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি শতাধিক জঙ্গি এবং ৩৫ থেকে ৪০ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যুর খবরও প্রকাশ্যে আসে। এই সামরিক অভিযানের ফলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো এবং সামরিক সক্ষমতা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
জেনারেল দ্বিবেদী সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। স্যাটেলাইট নজরদারি, ড্রোন প্রযুক্তি এবং উন্নত গোয়েন্দা ব্যবস্থার কারণে প্রতিটি গতিবিধিই এখন প্রতিপক্ষের নজরে চলে আসে। সেই কারণেই সেনা মোতায়েন, বাহিনীর ব্যবহার এবং সীমান্তবর্তী অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যুদ্ধ কেবল সীমান্তে সেনার লড়াই নয়, বরং গোটা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত একটি বিষয়। তাই ভবিষ্যতের যেকোনও সংঘর্ষের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং তিন বাহিনীর যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অপারেশন সিঁদুরেও হয়নি শিক্ষা? পাকিস্তান থেকে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল লস্কর-ই-তৈবার
প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যেখানে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানাতে বাধ্য হয়। ভারত সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও সেনাপ্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট, দিল্লি কোনওভাবেই হুমকির সম্ভাবনাকে হালকাভাবে দেখছে না। তিনি সরাসরি পাকিস্তানের নাম না নিলেও তাঁর বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—ভারতবিরোধী কার্যকলাপ বা সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ যদি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে তার জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হতে পারে। ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর প্রস্তুতির উল্লেখ করে তিনি কার্যত জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ভারত কোনও আপস করবে না এবং প্রয়োজনে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।




