করোনা তহবিলেও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে

বাংলা হান্ট ডেস্ক : করোনা অতিমারির (COVID) সময় কেন্দ্রের দেওয়া বিপুল আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসা পরিকাঠামো কাজে লাগায়নি তৎকালীন তৃণমূল সরকার (Trinamool Congress)। এবার ক্যাগ (CAG)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট সামনে আসতেই সেই প্রশ্নই নতুন করে উঠে এসেছে। করোনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। ক্যাগ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কেয়ার্স তহবিলের অর্থে সরবরাহ করা একাধিক অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও ভেন্টিলেটর দীর্ঘদিন ব্যবহারই করা হয়নি।
কোভিড নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের (Trinamool Congress) বিরুদ্ধে
কোভিডকালে কেন্দ্রের দেওয়া বরাদ্দের বড় অংশও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খরচ হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ক্যাগ রিপোর্টে। ২০২৪ সালের ক্যাগ রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের করোনা-পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তথ্য উঠে এসেছে । গত শুক্রবার বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করা হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত করোনা মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয় কেন্দ্র। কিন্তু রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেই বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই অব্যবহৃত থেকে যায়। অর্থাৎ ৬৫৯ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা খরচই করা হয়নি।
এত বিপুল অর্থ ব্যয় না হওয়ার কারণ কী, সেই প্রশ্নও উঠেছে রিপোর্ট ঘিরে। শুধু অর্থ ব্যয়ের বিষয়ই নয়, চিকিৎসা পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একাধিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যাগ আরও জানিয়েছে, করোনা চিকিৎসার জন্য পাঠানো ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের বড় অংশও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়নি।
বহু হাসপাতাল সেই যন্ত্রপাতি পেয়েও রোগী পরিষেবায় কাজে লাগাতে পারেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পিএম কেয়ার্স তহবিল এবং কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR)-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট পাঠানো হয়েছিল। অথচ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ৩২টি চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। বাকি ৪৩টি প্ল্যান্ট কেন চালু হল না বা সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, একটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পিএম কেয়ার্স প্রকল্পে পাওয়া পাঁচটি ভেন্টিলেটর ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত গুদামেই পড়ে ছিল। একই হাসপাতালে আরও তিনটি ভেন্টিলেটর স্টোররুমে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে পরে অকেজো হয়ে যায়।

আরও পড়ুন :‘২০% DA কথাটা শুনতে ভালো লাগে কিন্তু..,’ রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
একই ধরনের চিত্র দেখা গিয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও। সেখানে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পাওয়া ১৭টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর দীর্ঘদিন চালু করা যায়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি, পিএম কেয়ার্স তহবিলের আওতায় পাঠানো পাঁচটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটরও হাসপাতালের স্টোরেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। রিপোর্টে ওঠা এই তথ্যগুলি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। করোনা সংকটের সময় যখন অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তখন কেন্দ্রের পাঠানো বিপুল অর্থ ও সরঞ্জামের বড় অংশ কেন ব্যবহার করা গেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।




