‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ খেলনায় মুগ্ধ গোটা বিশ্ব! মাত্র ৭ বছরে বৃদ্ধি পেল ৮৯ শতাংশ রফতানি

সবদিক নিউজ: কয়েক বছর আগেও ভারতীয় (India) বাজার শুধু বিদেশি ও চিনা খেলনায় (Toy Industry) ভরে থাকত। সেগুলি যেমন টেকসই ছিল না, ঠিক তেমনই শিশুদের জন্যও অনিরাপদ ছিল। তবে, এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। গত ৭ বছরে ভারত খেলনার সেক্টরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছে এবং গ্লোবাল মার্কেটে ভারতে তৈরি খেলনা বিপুল পরিমাণে রফতানিও (Exports) করা হয়েছে। বর্তমানে সামনে এসেছে সেই পরিসংখ্যান। যেটি নিঃসন্দেহে অবাক করবে সবাইকে।
ভারতীয় (India) খেলনার রফতানি বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে:
জানিয়ে রাখি যে, লোকসভায় সরকারের তরফে উপস্থাপিত নতুন পরিসংখ্যান সত্যিই বিস্ময়কর। ২০১৮-১৯ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ সালে ভারতের খেলনা রফতানি ৮৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, বিদেশ থেকে খেলনা আমদানি প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে আমেরিকা থেকে শুরু করে জার্মানির ও ব্রিটেনের মতো ধনী ও বড় দেশগুলিও ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ খেলনা কিনছে।

নকল খেলনার দিন শেষ: উল্লেখ্য যে, ২০১৮-১৯ সালের দিকে আমদানি করা অনেক খেলনাই ছিল পুরোপুরি নিম্নমানের। ২০১৯ সালের এক চেকিংয়ে দেখা যায় যে, ভারতীয় বাজারে বিক্রি হওয়া খেলনাগুলির মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ ছিল ভালো মানের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং নিয়মকানুন আরও কড়া করে। যার ফল ভালোভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে উপলব্ধ খেলনাগুলির ৯৫ শতাংশই সর্বোচ্চ মানের। অর্থাৎ, এখন আপনি নির্ভয়ে আপনার সন্তানদের জন্য নিরাপদ খেলনা কিনতে পারেন।
প্রতিবছর আর করতে হবে না বাইক-গাড়ির পলিউশন টেস্ট? বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের
২০২৬ সালের জুলাই মাসে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে একটি বিশাল খেলনা মেলা (টয় বিজ ইন্টারন্যাশনাল) সম্পন্ন হয়েছিল। যেখানে ৪০০-র বেশি ভারতীয় সংস্থা তাদের খেলনা প্রদর্শন করেছিল। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৪০ টিরও বেশি দেশ থেকে মানুষ ভারতের তৈরি খেলনা দেখতে এসেছিলেন এবং প্রচুর পরিমাণে ক্রয় করেছিলেন। এর ফলে দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য গ্লোবাল মার্কেটে পৌঁছনোর একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় গ্রাহকদের ডেটা লিক! অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে অবিলম্বে করুন এই কাজ
কীভাবে সম্ভব হল: এই সাফল্য কিন্তু রাতারাতি আসেনি। সরকার বিদেশি খেলনার ওপর শুল্ক এতটাই বাড়িয়েছিল যে ভারতে সেগুলির আমদানি নিজে থেকেই কমে গিয়েছিল। এছাড়াও, দেশের নতুন ও পুরোনো উভয় খেলনা প্রস্তুতকারী সংস্থাকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষানীতিতেও দেশীয় খেলনা ব্যবহার করে শিক্ষাদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সমস্ত পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে খেলনার ক্ষেত্রে ভারতকে অনন্য জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।




