Sharmila Dhankhar: ছোটবেলা থেকেই পা বিকল, স্বামী তাড়িয়ে দিয়েছিল বাড়ি থেকে! আজ কমনওয়েলথে সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করলেন শর্মিলা

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ গ্লাসগো (Glasgow) কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতের (India) ক্রীড়াবিদ শর্মিলা ধনখড় (Sharmila Dhankhar)। ৪০ বছর বয়সী প্যারা-অ্যাথলিট মহিলাদের এফফিফটিসেভেন শট পাট ইভেন্টে তিনি স্বর্ণপদক জয় করেছেন। মীরাবাঈ চানুর পর চলতি কমনওয়েলথ গেমসে (CWG 2026) দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে সোনা জেতেন তিনি। তার এই জয়ের মধ্যে দিয়ে তিনি প্যারা-অ্যাথলেটিক্সে ভারতের ২০ বছরের পদকের খরার ধারার অবসান ঘটিয়েছেন। ৯.৮১ মিটার দূরত্বে শট পাট ছুড়ে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। যুবরাজ সিংয়ের মতো কিংবদন্তিও এই সাফল্যের জন্য তাকে আজ সাধুবাদ জানান।
আজ তিনি গোটা ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীদের শুভেচ্ছার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছেন। নানা মহল থেকে তাকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। কিন্তু শর্মিলার জীবন বরাবর এমন ছিল না। প্রবল জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে একসময় তাকে যেতে হয়েছে। আজ থেকে ঠিক ১৪ বছর আগে, ২০১২ রেওয়ারির গুরকাওয়াস গ্রামে তাঁর প্রথম স্বামী তাঁকে ও দুই ছোট্ট মেয়ে সহ এক কাপড়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের করে দিয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর দুই মেয়ে সন্তানের জন্মের ওর থেকেই তার মাদকাসক্ত স্বামী তার সঙ্গে অমানুষের মতো আচরণ শুরু করে। প্রতিবেশীরা সহায়তায় সেই যাত্রায় সম্মান বেঁচেছিল। এরপর তাঁর বাবা ও মা, তাকে তার দুই মেয়ে সহ নিজেদের গ্রাম ছিত্রৌলিতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: কমনওয়েলথে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক! জাতীয় সঙ্গীতের সময় আবেগে ভাসলেন মীরাবাঈ চানু! শুভেচ্ছা জানালেন মোদী
কিন্তু তার আগেও শর্মিলার জীবনে খুব একটা শান্তি ছিল না। মাত্র দুই বছর বয়স থেকে তিনি একটি পায়ে পোলিওজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর মা সরোজ, ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। মেয়ের এই সাফল্যের পর তিনি জানিয়েছেন যে, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শর্মিলা পড়াশোনায় তুখোড় ছিলেন। কিন্তু তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার না হওয়ার কারণে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। গ্লাসগোতে স্বর্ণপদক জয়ের পর শর্মিলা তাঁর মা, বর্তমান স্বামী অজিত সিংকে নিজের সাফল্যের কৃতিত্বের বড় অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
প্রথম স্বামীর সাথে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালে শর্মিলা দ্বিতীয়বার বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। পেশায় একজন প্লাম্বার ও পাম্প টেকনিশিয়ান হলেও শর্মিলার খেলাধুলায় কোনওদিন বাঁধা দেননি অজিত। বরং খেলাধুলা নিয়ে নিজের স্ত্রী-কে এগিয়ে যেতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নিজের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। অজিতের কাছ ছিল শর্মিলার দুই মেয়ের দেখাশোনা করা। ফলে নিজের অনুশীলনে মনোনিবেশ করতে সুবিধা হয় তার। আজকের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের ঠিক এক বছর আগে শর্মিলা নিজের বাবাকে হারান। সেই সময়ও মানসিকভাবে তাকে শক্ত থাকতে সাহায্য করেন অজিত।
আরও পড়ুন: ডুরান্ড ডার্বির পরে ফের CFL-এও জিত মোহনবাগানের! হারের ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরলো ইস্টবেঙ্গলও
ভারতকে সোনা এনে দেওয়া এই ক্রীড়াবিদ গ্লাসগো গেমসের আগে অবধি একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। এই সাফল্যের পর তিনি আশা করছেন যে, এই স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং হরিয়ানা সরকারের সহযোগিতায় তিনি নিজের ও নিজের পরিবারের থাকার জন্য একটি বাড়ি কিনতে পারবেন। এর আগে তিনি বার্মিংহাম প্যারা কমনওয়েলথ গেমস এবং হাংঝৌ প্যারা এশিয়ান গেমসে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু এবার স্বর্ণপদক জয় করে সমাজের পিছিয়ে পড়া স্তরের নারীদের তিনি বার্তা দেন যে সকলেরই উচিত অত্যাচার ও উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং সোচ্চার হওয়া। তিনি জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে তিনি তাঁর মেয়েদেরকেও খেলাধুলায় কেরিয়ার গড়তে উৎসাহিত করবেন।




