১৪ গুণ বাড়ল রফতানি! বিশ্বজুড়ে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির জয়জয়কার

সবদিক নিউজ: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বত্রই বৈদ্যুতিক গাড়ির (Electric Vehicles) চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবহেই বিদেশে দ্রুত বাড়ছে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারত (India) থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ির রফতানি (Exports) ১৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে বিদেশে মাত্র ১,১২২ টি বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। সেখানে এই বছর সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫,৬৪১ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সংখ্যাটি গত পুরো অর্থবর্ষের মোট বৈদ্যুতিক গাড়ি রফতানির অর্ধেকেরও বেশি।
বিশ্বজুড়ে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির (Electric Vehicles) জয়জয়কার:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আমেরিকা-ইরান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। ফলস্বরূপ, মানুষ ক্রমবর্ধমানভাবে কম দামের বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। এতে ভারতীয় গাড়ি কোম্পানিগুলি সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে। চমৎকার রফতানির কারণে মারুতি, মাহিন্দ্রা ও টাটা মোটরসের বিক্রি বেড়েছে।

মারুতির এই গাড়িটি ৪৭ টি দেশে বিক্রি হচ্ছে: জানিয়ে রাখি যে, এই চিত্তাকর্ষক সাফল্যের সবচেয়ে বড় অবদান মারুতি সুজুকির নতুন ইলেকট্রিক SUV, ই-ভিটারা-র। গত ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে সর্বাধিক ররফতানি হওয়া গাড়ির তালিকায় এই গাড়িটি তৃতীয় স্থানে ছিল। মাত্র ৩ মাসে, মারুতি সুজুকি ৪৭ টি দেশে ১৫,২১০ টি ই-ভিটারা গাড়ি পাঠিয়েছে। যেখানে ব্রিটেন ছিল বৃহত্তম বাজার এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল দ্বিতীয়। মারুতি সুজুকি সম্প্রতি মূলত ইউরোপিয় বাজারগুলিতে ২০ টি নতুন দেশে ই-ভিটারা লঞ্চ করেছে। সংস্থাটির মতে, ভারতে তৈরি গাড়ির গুণমান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলিতে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে রেখে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৪ টি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
৫ বছরেই ৪ গুণ বৃদ্ধি, ভারতে হু হু করে বাড়ছে ধনকুবের! চমকে দেবে দেশের মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা
টাটা মোটরসও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে: উল্লেখ্য যে, টাটা মোটরস বিশ্বব্যাপী তাদের ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে EV রফতানি শুরু করেছে এবং এখন এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি নতুন বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। টাটা মোটরস আগামী ৫ বছরে ৪০,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। এই বিনিয়োগ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন ইলেকট্রিক মডেল তৈরি করতে ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি সংস্থাটি ২০৩১ সালের মধ্যে তার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ১৩ লক্ষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও, টাটা মোটরস বৈদ্যুতিক মডেলের সংখ্যা ৬ টি থেকে বাড়িয়ে ১০ টি করার পরিকল্পনা করেছে।
LPG-র দাম থেকে ইনকাম ট্যাক্স! ১ অগাস্ট থেকে এই ৬ টি ক্ষেত্রে হবে পরিবর্তন, ফের টান পড়বে পকেটে?
নতুন মডেল তৈরি করছে মাহিন্দ্রা: এদিকে, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা তাদের BE 6 এবং XEV 9e ইলেকট্রিক SUV-র এমন মডেলও তৈরি করছে যা ব্রিটেনের মতো ডান-হাতের স্টিয়ারিংযুক্ত দেশগুলির জন্য উপযুক্ত হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, তারা প্রথমে ওই দেশগুলিতে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করবে এবং তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ইউরোপিয় দেশগুলিতেও তা বিস্তার করবে। সামগ্রিকভাবে, ভারতীয় কোম্পানিগুলি এখন আর নিজেদেরকে শুধু দেশীয় বাজারে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত মান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে ভারতে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়িগুলি এখন বিশ্বজুড়ে একাধিক প্রধান বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে।




