0%

ধস আর হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল! স্তব্ধ পানীয় জল ও বিদ্যুৎ, জারি অরেঞ্জ অ্যালার্ট

AK Bangla Desk: হিমাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত জনজীবন। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে রাজ্যের একাধিক জেলায় ধস, আকস্মিক বন্যা এবং পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাম্বা জেলা। সেখানে ভূমিধসে প্রায় এক ডজন গাড়ি মাটির নীচে চাপা পড়েছে। বহু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার জেরে অন্তত ১০৮টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ৩৮টি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প এবং ৯টি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চাম্বা, কাংড়া, কুলু, মান্ডি, শিমলা, সিরমৌর এবং সোলান জেলার কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার মাঝারি মাত্রার আশঙ্কা রয়েছে। শিমলার আবহাওয়া কেন্দ্র ৩০ জুলাই পর্যন্ত এবং ফের ৩ আগস্ট রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে।

আবহাওয়াবিদ সন্দীপ কুমার শর্মার মতে, ২৯ জুলাই গভীর রাত থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা সর্বাধিক থাকবে। এই সময়ে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। চাম্বা জেলার ভারিয়াদ গ্রামে প্রবল বর্ষণের জেরে পাহাড়ি ঝরনার গতিপথ হঠাৎ বদলে যায়। উপচে পড়ে নালা ও জলধারা। উদয়পুর-গোলথি-নবোদয় সড়কে ভূমিধসে গাড়ি, ট্রাক ও মোটরসাইকেল-সহ প্রায় এক ডজন যানবাহন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে। তাডোলি নালার প্রবল স্রোতে ভেসে আসা বড় বড় পাথরে একটি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে আশপাশের একাধিক বাড়িতেও।

গত ২৪ ঘণ্টায় চাম্বার জোট এলাকায় সর্বাধিক ১৩৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া নয়না দেবীতে ১১৮ মিলিমিটার, মুরারি দেবীতে ৮৩ মিলিমিটার এবং শিমলায় ৫৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে, শিমলায় সতলুজ জল সরবরাহ প্রকল্পের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া এবং জলাধারে অতিরিক্ত পলি জমে যাওয়ায় আগামী কয়েক দিন পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছে শিমলা জল প্রবন্ধন নিগম। উল্লেখ্য, চলতি বর্ষা মরশুম শুরু হওয়ার পর ৩০ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর বাসিন্দাদের নদী-নালা থেকে দূরে থাকার এবং প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker