রোগী সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত, সরকারি হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে ওষুধের অডিট হবে বাধ্যতামূলক

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বদলে যাচ্ছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির (Government Hospital) ওষুধ সংরক্ষণ ও নজরদারির ব্যবস্থা। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক ঘটনাকে সামনে রেখে এবার আর শুধু স্টোররুম নয়, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, কেবিন এবং চিকিৎসা ইউনিটে নিয়মিত ওষুধ যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর । নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর জারি করে রাজ্যজুড়ে এক অভিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে (Government Hospital) নিয়ম বদল
স্বাস্থ্য দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সপ্তাহে একবার ওষুধের মজুত অডিট করা হবে। কোনও ওষুধের ব্যবহারযোগ্যতার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে ধরা পড়লে, সেটি আর এক মুহূর্তও সংরক্ষণ করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গেই তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করা হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই কড়াকড়ির সূত্রপাত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্ট্রোকে আক্রান্ত মানসী দে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অভিযোগ, স্যালাইন দেওয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, “স্যালাইন বোতল খতিয়ে দেখে জানা যায় স্যালাইনগুলোর মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হয়ে গিয়েছে।”
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে প্রতিটি সামগ্রীর মেয়াদ নিয়মিত আলাদা করে পরীক্ষা করা সবসময় সম্ভব হয় না। সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। এরপরই বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্যালাইনটি হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে পড়ে ছিল। সেই কারণেই নতুন নির্দেশিকায় হাসপাতালে যেখানে যেখানে ওষুধ রাখা হয়, সব জায়গাই নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশ থাকছে। প্রতিটি ওষুধের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ মিলিয়ে দেখা হবে। কোনও ওষুধের মেয়াদ যদি ২৪ ঘণ্টা আগেও শেষ হয়ে থাকে, তাহলেও সেটি আর ব্যবহারযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

আরও পড়ুন : বর্ষার ছুটিতে দার্জিলিংয়ের এই অচেনা জায়গা হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে তাঁদের আশা। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এমন অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। অতীতেও জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ওল্ড মালদহ গ্রামীণ হাসপাতালকে ঘিরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার গোটা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ করতে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। সরকারের আশা, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হাসপাতালগুলিতে ওষুধ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এর ফলে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।




