অভিষেকের গ্রেফতারির আশঙ্কা ? জল্পনার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত মমতার

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পরিবর্তন। দলের ভেতরে নেতৃত্বের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে তিনি বহাল থাকলেও তাঁর দায়িত্বের পরিধি ও ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
অভিষেককে (Abhishek Banerjee) নিয়ে কেন সিদ্ধান্ত মমতার ?
দলের বিভিন্ন স্তরে অভিষেককে নিয়ে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। একাধিক বিধায়ক, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী এবং স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে এমন মতামত রয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি তাঁদের আস্থা অটুট থাকলেও অভিষেককে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনের নিচুতলা থেকে শুরু করে কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যেও একই ধরনের আলোচনা চলছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই মন্তব্য করছেন, ‘অভিষেকের জন্যই দলটা শেষ হয়ে গেল।’ এই আবহেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও তাঁর সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হয়েছে দলের দুই অভিজ্ঞ সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দায়িত্বের এই পুনর্বিন্যাস নিছক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর নেপথ্যে অন্য বার্তাও থাকতে পারে।
অনেকের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের প্রত্যাশিত ফল না আসার প্রভাব এই সিদ্ধান্তে পড়েছে। আবার, দলের অন্দরে একটি অংশের ধারণা, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার নজর ক্রমশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে বাড়ছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, অভিষেক ব্যানার্জীর বাসভবন সংক্রান্ত নির্মাণের বৈধতা নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের তরফে একাধিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির কোনওটিই তাঁর নামে নয় বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডির তৎপরতাও নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। এর আগে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীনও একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।

আরও পড়ুন : বাংলায় তৈরি হচ্ছে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, রেলমন্ত্রীর পাশে বসেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ফলে প্রশ্ন উঠছে, সম্ভাব্য কোনও আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতার কথা ভেবেই কি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আগে থেকে বিকল্প সাংগঠনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে? যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে কৌতূহল এবং জল্পনার মাত্রা।




