আর্থিক দুর্নীতি মামলায় পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডির তল্লাশি

সবদিক নিউজ: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল) সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় বুধবার সকাল থেকে কেরলজুড়ে একাধিক জায়গায় অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, বিজয়নের ভাড়া বাড়ি-সহ মোট ১২টি জায়গায় চলছে তল্লাশি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিজয়নের কন্যা টি বীণা এবং তাঁর সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’। অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ‘এক্সালজিক সলিউশনস’ কোনও পরিষেবা না দিয়েই সিএমআরএল-এর কাছ থেকে প্রায় ১.৭২ কোটি টাকা নিয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনকে ঘিরেই জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শিল্প রাসায়নিক উৎপাদনকারী কেরল-ভিত্তিক সংস্থা সিএমআরএল বেআইনিভাবে এই অর্থ প্রদান করেছিল। যদিও মামলায় সরাসরি পিনারাই বিজয়নের নাম অভিযুক্ত হিসেবে নেই, তবে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংযোগ থাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের অগস্টে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক টি বীণার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়। এসএফআইও-র অভিযোগপত্রে টি বীণা, সিএমআরএল-এর ডিরেক্টর শশীধরণ-সহ মোট ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোম্পানি আইন, ২০১৩-এর ৪৪৭ ধারায় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে ছ’মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জালিয়াতির অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। এদিকে, ইডির দায়ের করা মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিএমআরএল কেরালা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। তার পরের দিনই কেরলের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি। তল্লাশির তালিকায় প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী মোহাম্মদ রিয়াস-এর কোঝিকোড়ের বাড়ির নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তদন্ত আগামী দিনে কেরলের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, আর্থিক তছরুপের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কংগ্রেস ও বিজেপি। তৎকালীন বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছিল। বর্তমানে কেরলে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসন দুর্নীতি তদন্তে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।



