0%

ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন! পাকিস্তানের ঘাঁটিতে ছিল ইরানের যুদ্ধবিমান? প্রকাশ্যে আমেরিকান রিপোর্ট

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে খুব বড় মুখ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর করতে এসেছিল পাকিস্তান (Pakistan)। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েই এবার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার হামলা থেকে বাঁচাতে ইরান তাদের কিছু যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছিল। এই খবর সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

যুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের এয়ারবেসে ইরানের যুদ্ধবিমানকে আশ্রয় দিয়েছিল পাকিস্তান (Pakistan)?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার পর ইরান তাদের কয়েকটি যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের নুর খান এয়ারবেসে সরিয়ে নেয়। শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, ইরানের RC-130 নজরদারি বিমানও সেখানে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এটি আমেরিকার Lockheed C-130 Hercules বিমানের বিশেষ সংস্করণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা থেকে ইরানের বাকি যুদ্ধবিমানগুলিকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই দাবি এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুন:‘আগে রোল বানাত, এখন কোটি কোটি টাকার মালিক সুজিত’! কীভাবে? জানালেন অর্জুন সিং

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। সমাজমাধ্যম X-এ তিনি লেখেন, “এই তথ্য সত্যি হলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নতুন করে বিবেচনা করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি ইজ়রায়েল প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের অতীত মন্তব্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের পক্ষে এমন পদক্ষেপ করা অসম্ভব নয়। এই মন্তব্যের পর থেকেই ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নুর খান এয়ারবেস কোনও নির্জন এলাকায় নয়, বরং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে গোপনে ইরানের যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেই দাবি তাঁদের। পাকিস্তানের বক্তব্য, তারা এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষেই কাজ করছে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, একদিকে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে ইরান ও চিনকে অসন্তুষ্ট না করার কৌশল পাকিস্তানের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: রুট বদল হাওড়া-বর্ধমান মেমু ট্রেনের, সফরের আগে জেনে নিন নতুন পথ

একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরান আফগানিস্তানেও কিছু বিমান সরিয়ে রেখেছিল। তবে সেখানে মূলত বেসামরিক বিমান রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আফগানিস্তানের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় মাহান এয়ারের একটি বিমান কাবুলে রাখা হয়েছিল এবং পরে সেটিকে হেরাত বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। যদিও তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, আফগান মাটিতে ইরানের বিমান রাখার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের (Pakistan) নিরপেক্ষতা নিয়ে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker