0%

উৎকণ্ঠার অবসান! অবশেষে বাড়ি ফিরলেন হাওড়ার দময়ন্তী

AK Bangla 24×7 Digital: হাওড়ার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া জাতীয় স্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন অবশেষে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর লঞ্চ ঘাটের কাছে বছর পনেরোর এই কিশোরীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দময়ন্তীকে চিনতে পেরে তাঁরা দ্রুত তাঁর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেনকে খবর দেন। খবর পেয়েই ধ্রুবজ্যোতিবাবু ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। তবে গত দু’দিন ধরে দময়ন্তী কোথায় ছিলেন, কী কারণে বাড়ি ছাড়লেন বা এই সময়ে কী করেছেন—সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে সম্পূর্ণ নারাজ তাঁর পরিবার। 

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ। অন্য পাঁচটা দিনের মতোই মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাড়ি থেকে দুধ কেনার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন দময়ন্তী। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল রাতের পোশাক (নাইটড্রেস), এমনকি সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা টাকা-পয়সাও ছিল না। দোকান থেকে ফিরে সকাল ১০টা নাগাদ বাবার সঙ্গেই তাঁর অনুশীলনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও দময়ন্তী বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়েন তাঁর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। আশপাশে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করার পর কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে হাওড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। বাড়িতে কারও সঙ্গে কোনো অশান্তি না হওয়া সত্ত্বেও মেয়ে কেন আচমকা এভাবে উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে অন্ধকারে ছিল পরিবার।

নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বৃহস্পতিবার সকালে দময়ন্তীকে একবার হাওড়া স্টেশন ও শ্রীরামপুর স্টেশনে দেখা গিয়েছিল। এমনকি শুক্রবার সকালে শ্রীরামপুরের মাহেশের রথের মেলা প্রাঙ্গণেও তাঁকে ঘুরতে দেখা যায়। শুক্রবার দিনভর এই খবর ও ছবি সমাজমাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর মাঝেই দময়ন্তীর বাবা অভিযোগ তোলেন, রেল কর্তৃপক্ষ হাওড়া সিটি পুলিশকে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ দিতে দেরি করায় মেয়েকে খুঁজে পেতে সময় নষ্ট হচ্ছে। যদিও রেল পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে সাহায্যের আশায় ভবানীভবনেও যান ধ্রুবজ্যোতিবাবু।

জাতীয় স্তরের এই শুটারকে খুঁজে বের করতে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে চারটি বিশেষ দল (টিম) গঠন করা হয়েছিল। হাওড়া শহরের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন তদন্তকারীরা। দময়ন্তী কোথায় কোথায় যেতে পারেন, সেই সংক্রান্ত সমস্ত সম্ভাব্য ঠিকানার তালিকা পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দল তল্লাশি শুরু করে। চারদিকে পুলিশের এই জোরদার চিরুনি তল্লাশি ও সমাজমাধ্যমের বার্তার মাঝেই, শনিবার ভোরে নাটকীয়ভাবে রামকৃষ্ণপুর লঞ্চ ঘাটের কাছ থেকে হদিশ মেলে নিখোঁজ দময়ন্তীর।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker