0%

এবার আখ থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ! তৈরি বিশ্বের প্রথম ইথানল ইঞ্জিন

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, এবার ইথানল থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুতও। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল বিশ্বের প্রথম ইথানল ইঞ্জিন (Ethanol Engine) তৈরি করেছে। যেটি সম্পূর্ণরূপে ইথানলের সাহায্যে চলবে এবং বৃহৎ পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এখনও পর্যন্ত, ইথানল শুধুমাত্র গাড়ি ও ট্রাকের মতো যানবাহনে পেট্রোল এবং ডিজেলের বিকল্প হিসাবে অথবা ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হতো। এখন, বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি করা একটি বিশাল ইঞ্জিন পাওয়ার গ্রিডের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।  এমতাবস্থায়, এই অসাধারণ প্রযুক্তি পাওয়ার গ্রিডে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

তৈরি বিশ্বের প্রথম ইথানল ইঞ্জিন (Ethanol Engine):

আখ থেকে তৈরি হবে বিদ্যুৎ: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এই প্রকল্পটি ব্রাজিলের পের্নাম্বুকোতে অবস্থিত ‘সুয়াপে II পাওয়ার প্ল্যান্ট’-এ স্থাপন করা হয়েছে। এর নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বালানি কোম্পানি সুয়াপে এনার্জিয়া এবং ফিনল্যান্ডের প্রখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা ভার্টসিলা।

World's first ethanol engine created, know the technology.

এর জন্য, ভার্টসিলা ৩২এম নামের একটি বিশেষ ইঞ্জিনকে পরিবর্তন করেছে। যা শুধুমাত্র ব্রাজিলের আখ থেকে উৎপাদিত ইথানলে চলে। বিজ্ঞানীরা এখন বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি পরীক্ষা করবেন। এটির কর্মক্ষমতা, স্থায়িত্ব এবং দূষণের মাত্রা যাচাই করার জন্য আগামী কয়েক বছর ধরে ইঞ্জিনটি চালানো হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী মন্দার আবহেও নির্ভয়ে এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতি! ৭.৭ শতাংশ হারে দৌড়চ্ছে ভারতের GDP

ইথানল উৎপাদনে ব্রাজিল একটি অগ্রণী দেশ: জানিয়ে রাখি যে, ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম ইথানল উৎপাদক এবং গ্রাহক হিসাবে বিবেচিত হয়। ইথানল উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিবহণের জন্য একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্রাজিল বহু বছর ধরে কাজ করেছে। রিপোর্ট অনুসারে সুয়াপে এনার্জিয়ার কারিগরি পরিচালক হোসে ফাউস্তিনো কান্দিদো জানিয়েছেন যে, যদিও ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম ইথানল উৎপাদনকারী দেশ, তবুও তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণাটি এখনও পর্যন্ত উপেক্ষিত ছিল। তবে, নতুন ইঞ্জিনটির মাধ্যমে ইথানল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ এখন সুগম হয়েছে।

আরও পড়ুন: সমুদ্র মন্থনের মাধ্যমে গুপ্তধন পেল ভারত! আন্দামান সাগরে মিলল প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার

ইথানল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কেন উপকারী: উল্লেখ্য যে, সৌর প্যানেল এবং বায়ু টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদি সূর্যরশ্মির তেজ না থাকে ​​বা বাতাস না বয়, সেক্ষেত্রে এগুলি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই কারণে গ্রিড চালু রাখার জন্য ব্যাটারি বেসড স্টোরেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
আরেকটি সুবিধা হল, এটি একটি স্বল্প-কার্বন শক্তির উৎস। যা সংরক্ষণ ও পরিবহণ করা যায়। এদিকে, ইথানল ইঞ্জিন সৌর বা বায়ু শক্তি উপলব্ধ না থাকলেও নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA)-এর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জৈবশক্তির উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এমতাবস্থায়, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker