0%

‘এরা বিধায়ক ছিলেন, কেউ ভয়ে হয়তো অভিযোগ করেননি ‘, অদিতি-দেবরাজ মামলায় যা বলল হাইকোর্ট

বাংলা হান্ট ডেস্ক : নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের প্রকৃত তথ্য গোপন করা এবং আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ ঘিরে আইনি চাপে রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি (Aditi Munshi)। গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগেভাগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে দেবরাজ ও অদিতির সম্পত্তি সংক্রান্ত তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট তলব করল আদালত। আগামী ১৯ জুনের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অদিতির (Aditi Munshi) সম্পত্তি মামলায় বিচারপতি

এদিন শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “সম্পত্তি হস্তান্তর কোনও অবৈধ কাজ নয়। কেউ অভিযোগ করেনি এর জেরে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ইনকাম ট্যাক্স দফতর বিষয়টি দেখুক।” এর পাল্টা রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার আদালতে প্রশ্ন তোলেন, “রোজগারের উৎস কী জানতে হবে। হঠাৎ এত সম্পত্তি কীভাবে হল প্রশ্ন উঠছে?”

তখন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ফের দাবি করেন, “সম্পত্তি নিয়ে হলফনামায় মিথ্যে কথা বলা হলে সেটা ইলেকট্রোরাল অপরাধ হতে পারে ক্রিমিনাল অপরাধ নয়।” শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মন্তব্য করেন, “শেখ শাজাহানের কথা মনে আছে? কেউ ভয়েতে হয়ত অভিযোগ করতে পারেনি, এরা বিধায়ক ছিলেন বলে।”

এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, “সম্পত্তি ট্রান্সফার হয়েছে একদিনে। মাত্র একদিনে এত কোটি সম্পত্তি কীভাবে বদল হয়? সেখানে কোনও বেআইনি হস্তান্তর হতে পারে। এত সম্পত্তির টাকা কোথা থেকে জোগাড় হল? এগুলি অরগানাইজ ক্রাইম।” তবে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানান, “সম্পত্তি নিয়ে রিপোর্ট দিন। কেউ অত্যাচারিত হয়েছেন বলে যেহেতু অভিযোগ নেই তাই আপাতত অরগানাইজ ক্রাইম বলা যাবে না।”

রাজ্যের আরও এক আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি আদালতে দাবি করেন, “অদিতি মুন্সির ৪০ লক্ষ এবং দেবরাজের ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪০ টাকা পাঁচ বছরে আয়। অথচ গাড়ি কেনা হয়েছে মোট তিনটি। গাড়ির মূল্য ৭১ লাখ টাকার। আবার সম্পত্তি আছে ১০০ কোটি টাকার। তার অধীনে ওই এলাকার দুই কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে।”

আরও পড়ুন : আর বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কটের আবহেই বাজিমাত করলেন মুকেশ আম্বানি

শুনানি শেষে রাজ্যের তরফে মৌখিকভাবে আদালতকে জানানো হয়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অদিতি ও দেবরাজের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হবে না। প্রসঙ্গত, ভোটের আগের দিন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ ছিল, মনোনয়নপত্রে সম্পত্তি ও জমি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য গোপন করা হয়েছে।
এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্টের ওপরই অনেকটাই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker