কেন তুমি আমাকে জন্ম দিলে? অমিতাভ চোখে জল নিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন! তারপর বালিশের নিচে চিঠিটা পাওয়া গেল…

জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে যখনই অমিতাভ বচ্চন সাহস পান, অমিতাভ বচ্চন তাঁর বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের কবিতার বই তাঁর সামনে রাখেন। ভাল সময় হোক বা কঠিন সময়, বিগ বি তার বাবার শেখানো দর্শনকে আঁকড়ে ধরেন। বাবার কবিতাই তার চালিকাশক্তি। অমিতাভ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং তার ব্লগে বহুবার এই কথা লিখেছেন। সেই একই বাবা একবার তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন যা তার চোখে জল এনেছিল। তবে সেই চিঠির পিছনে ছিল বাবার কাছে অমিতাভের প্রশ্ন, যা শুনে হতবাক হরিবংশ রাই বচ্চন। সকালে অমিতাভ একটা চিঠি লিখে বালিশের নিচে রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন!
কি হয়েছিল সেদিন?
সদ্য বলিউডে পা রেখেছেন অমিতাভ বচ্চন। একের পর এক ছবি ফ্লপ হয়। বলিউডে পা রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন বিগ বি। কিন্তু হঠাৎ একদিন ভেঙে পড়েন তিনি। স্টুডিও থেকে বাসায় আসার পর চিৎকার শুরু হয়। সেদিন অমিতাভকে থামাতে গিয়েছিলেন তার বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন। কিন্তু সেদিন তিনি অমিতাভকে থামাতে পারেননি, বরং এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হন যা তাঁকে নাড়া দেয়। তবে সেদিন অমিতাভকে কিছু বলেননি হরিবংশ। বরং তিনি চুপ হয়ে গেলেন।
পরের দিন অমিতাভ ঘুম থেকে উঠে বালিশের নিচে বাবার হাতের লেখা একটি নোট দেখতে পান। হরিবংশ তখন প্রতিদিনের নিয়ম মেনে মর্নিং ওয়াক করতে বের হন। সেই চিরকুটে লেখা একটি কবিতা, আমার ছেলে জীবন ও জগতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভয় পায়। আর আমাকে জিজ্ঞেস করছে কেন আমি তাকে জন্ম দিলাম! একটি নতুন ধারণার জন্ম হয়, শিশুদের তাদের পৃথিবীতে আনতে বলুন!
বাবার লেখা কবিতা পড়ে অমিতাভের চোখ জলে ভরে গেল। সেদিন সে বুঝতে পেরেছিল তার বাবা কতটা কঠিন ছিল। এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এই অধ্যায় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি যখন বাবা হলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল বাবা হওয়া সহজ কাজ নয়! আমিও নীরবে আমার ছেলের লড়াই দেখেছি। আমি চুপ করে রইলাম। আমার বাবার সেই কবিতা আমাকে এক নিমিষেই মানুষ করে তুলেছিল।



