0%

গরিবকে অবহেলা! নিজেদের ‘চিকিৎসক’ বলে পরিচয় দেবেন না, ধর্ষিতার মৃত্যুতে ‘সুপ্রিম’ ভর্ৎসনা

‘নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দেবেন না।’ চার বছরের এক শিশুর ধর্ষণের মামলায় উত্তরপ্রদেশের দু’টি হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই ভাষাতেই ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই হাসপাতাল দু’টিতে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসা হয়নি ধর্ষিতার। কার্যত অবহেলায় মৃত্য হয় তাঁর। এই ঘটনাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দুই হাসপাতালের চিকিৎসকরা সুপ্রিম তোপের মুখে পড়ে।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “মেয়েটি গরিব ছিল বলেই আপনারা তাঁকে অবহেলা করেছেন।” ক্ষুব্ধ আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের নাম থেকে ‘চিকিৎসক’ শব্দটি বাদ দিতে বলে, কারণ তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ প্রতিবেশী এক ব্যক্তি হাতে ধর্ষিতা হয় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের চার বছরের এক শিশু। চকলেটের লোভ দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত।

দীর্ঘ সময় শিশুকন্যা ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে বাড়ির লোকেরা। এরপর বাড়ির কাছেই নির্জন এলাকা থেকে অচেতন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। তড়িঘড়ি তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও তারা চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি। আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে একই ঘটনা ঘটে। পরে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সময় মতো চিকিৎসা হলে বেঁচে যেত শিশুটি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) তদন্তে সেকথাই প্রমাণিত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের তুমুল ভর্ৎসনা করেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, “আপনারা নিজেদের কর্তব্য পালন না-করলে, নামের সঙ্গে ‘চিকিৎসক’ লেখারও কোনও অধিকার নেই আপনাদের।” বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও বলেন, “আপনাদের মধ্যে যদি সংবেদনশীলতা থাকত, তবে আপনাদের পরিকাঠামো না থাকলে শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারতেন। আপনারা শিশুটিকে অবহেলা করেছেন, কারণ সে গরিব ছিল।”

শেয়ার

লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker