‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি’, বঙ্গে আসতে চলেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন ! বড় মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই বিজেপির নানান প্রকল্পকে ঘিরে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে বহু নয়া নীতি আনা হচ্ছে বিজেপি সরকারের আমলে। এবার রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মন্তব্যে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি কর্মসূচির মঞ্চ থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য।
জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় মন্তব্য শমীকের (Shamik Bhattacharya)
এদিন স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে নানান কথা বলেন শমীক ভট্টাচার্য।
টিকাকরণ কর্মসূচি ঘিরে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক বাধার প্রসঙ্গ তুলে, তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন পোলিও প্রতিষেধক দিতে গেলে মানুষ বাধা পেতেন। ধর্মান্ধ প্রচারের কারণে সমস্ত রোগকে আমরা নির্মুল করে ফেলতে পারিনি। সরকার সবে হয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই শপথ নেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই আবহে আমি আশাবাদী, যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই কয়েকদিনের মধ্যেই মানুষের আবেগ ছুঁতে পেরেছেন, একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এরাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও চেষ্টা করবেন।”
এদিন বক্তব্যের মাঝে ৩৪ বছর আগের একটি ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। অনিতা দেওয়ানের গণ ধর্ষনের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সুস্থ ও স্বাভাবিক সমাজে পরিবার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে ফ্ল্যাগশিপ প্রোজেক্ট তৈরি করে সরকারি প্রচারের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগ নিতে হবে। জমির উপর মানুষের চাপ কমাতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা করে মহিলাদের বিকাশ ঘটাতে এবং শিক্ষা-আর্থসামাজিক বিকাশের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে।” এই মুহূর্তে এরাজ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট প্রয়োজন আছে মনে করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে আবেদন করেছেন।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ৩৪ বছর আগের হলেও এর ভয়াবহ স্মৃতি আজও মলিন হয়নি। ১৯৯০ সালের ৩০ মে গোসাবা থেকে কলকাতায় ফেরার পথে বানতলা এলাকায় অনিতা দেওয়ান-সহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুইজন নারী স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং ইউনিসেফের এক নারী আধিকারিকের ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বাধা দিতে গেলে গাড়ির চালককেও হত্যা করা হয়। তৎকালীন বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর শাসনকালে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনা সেই সময় দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

আরও পড়ুন : ‘৩ হাজার টাকা না..,’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় কথা বলে দিলেন অধীর চৌধুরী
উল্লেখ্য, এদিন বিধাননগর হাসপাতালে রাজ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা হয়। রাজ্যজুড়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোট ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এই কর্মসূচি চলবে এবং প্রায় ৭ লক্ষ কিশোরীকে টিকাকরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।




