ঝাঁ চকচকে দেশের আড়ালে সঙ্কটের থাবা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস চিনের আসল ছবি, হতবাক গোটা বিশ্ব

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনকে (China) বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি এবং আধুনিক পরাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। উঁচু অট্টালিকা, ঝকঝকে শহর, দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নানা ছবি প্রায়শই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নেয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্স এবং ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সেই পরিচিত ছবির আড়ালে থাকা অন্য এক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বেজিংয়ের কঠোর সেন্সরশিপ এবং ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’-এর সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে প্রকাশ্যে আসা এই সব তথ্য ও ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, সরকারি প্রচারের বাইরে থাকা অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার এক ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ছে এই সব প্রতিবেদনে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস চিনের (China) আসল ছবি, হতবাক গোটা বিশ্ব
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিনের (China) উন্নয়নের সুফল এখনও সমানভাবে পৌঁছয়নি দেশের সব স্তরের মানুষের কাছে। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে বিপুল সংখ্যক গ্রামীণ মানুষ এখনও উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কাজের সন্ধানে শহরে চলে যাওয়া বাবা-মায়ের কারণে বহু শিশু গ্রামে আত্মীয়দের কাছে বা একাকী অবস্থায় বড় হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি বহু আবাসন প্রকল্প এবং অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক খালি আবাসন প্রকল্প বা তথাকথিত ‘ঘোস্ট সিটি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা আবাসন খাতের অতিরিক্ত সম্প্রসারণের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখাতে প্রস্তুত! T-72 ট্যাঙ্ক দিয়ে যুদ্ধের ময়দান কাঁপাবে ভারতীয় সেনা, তৈরি ‘মেগা প্ল্যান’
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কঠিন বাস্তবতাও উঠে এসেছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাস, কোথাও আবার কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ যুবসমাজের চিত্র। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও কিছু জাতিগত গোষ্ঠীর উপর প্রশাসনিক নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। যদিও চিন সরকার এই ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। পাশাপাশি, ‘হুকোও’ নামে পরিচিত আবাসিক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে শহর ও গ্রামের নাগরিকদের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও চিন বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ঋণনির্ভর নির্মাণ এবং চাহিদার তুলনায় বেশি প্রকল্প গড়ে ওঠার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। এভারগ্র্যান্ডের মতো বৃহৎ রিয়েল এস্টেট সংস্থার আর্থিক সংকট সেই সমস্যাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কোটি কোটি মানুষের বিনিয়োগ আটকে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগও কমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ব্যয় করার ক্ষমতা ও মানসিকতার উপর। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই এখন খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছেন, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: আশঙ্কাই হচ্ছে সত্যি? AI-র কারণে এই জনপ্রিয় সংস্থায় ২১,০০০ ছাঁটাই, আতঙ্কে গোটা IT সেক্টর
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চাপ। এক সন্তান নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে কর্মক্ষম যুব জনসংখ্যা কমছে এবং বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য খাতে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাত এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলির উৎপাদন কেন্দ্র ধীরে ধীরে ভারত, ভিয়েতনাম-সহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা চিনের (China) অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নতুন অর্থনৈতিক মডেলের দিকে এগোতে চাইছে বেজিং। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই পরিবর্তনের সময়কালে সাধারণ মানুষকে বেকারত্ব, আয় কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা চিনের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।




