ডিজ়েল সরবরাহে বড় স্বস্তি, পাত্রে জ্বালানি কেনার উপর বিধিনিষেধ শিথিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপিত ডিজ়েল সরবরাহ সংক্রান্ত বিধিনিষেধে আংশিক শিথিলতা আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জনস্বার্থে পাত্রে (কন্টেনারে) ডিজ়েল সরবরাহের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে তেল সংস্থাগুলিকেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে দেশে জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, পাত্রে ডিজ়েল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি সংগ্রহেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
– বিজ্ঞাপন –
তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চা বাগানের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে না। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই সমস্ত ক্ষেত্রকে ছাড় দেওয়ার জন্য তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতি যাতে সুচারুভাবে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। পাত্রে ডিজ়েল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে কৃষক, হাসপাতাল এবং বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। সেই কারণেই রাজ্য সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করছে।”
রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রের বিধিনিষেধের ফলে কৃষিকাজ, পশুপালন, পোল্ট্রি ফার্মিং এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। পেট্রল পাম্প থেকে পাত্রে ডিজ়েল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে সেচের পাম্প চালানো থেকে শুরু করে হাসপাতালের জেনারেটর পরিচালনা— সর্বত্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন পরিষেবা মূলত ‘হাই-স্পিড ডিজ়েল’ (এইচএসডি)-এর উপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও গ্রাহকেরা এখন থেকে আবার পাত্রে করে ডিজ়েল সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রতিদিনের সর্বাধিক জ্বালানি সংগ্রহের সীমাও শিথিল করা হয়েছে। ডিজ়েল সংগ্রহের জন্য শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিচয়পত্র দেখালেই চলবে। পরিচয়ের নথি হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশনের নথি, জমির রেকর্ড বা সরকারি স্বীকৃত নথি গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী বিভিন্ন মহলে স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



