তালপাতা সরতেই শতাধিক কার্তুজ! বেপাত্তা অভিযুক্ত শওকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা, তদন্তে পুলিশ

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Paraganas) ক্যানিংয়ে ফের বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। খোদ শাসকদলের এক দাপুটে নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপুল অস্ত্রশস্ত্র। অভিযুক্ত নেতা এলাকার বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ওই তৃণমূল নেতা, ইতিমধ্যেই তাঁর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে বিপুল কার্তুজ উদ্ধার পুলিশের
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার অন্তর্গত কালিকাতলা এলাকায় বাড়ি স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাবেদ শেখের। সম্প্রতি পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, তার বাড়িতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি মজুত করা রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জাবেদের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় জীবনতলা থানার পুলিশ।
বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তদন্তকারীদের নজর যায় বাড়ির পাশে জড়ো করে রাখা তালপাতার স্তূপের দিকে। সেই তালপাতার আড়াল সরাতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। দেখা যায়, সেখানে লুকিয়ে রাখা রয়েছে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৭৫টি তাজা রাইফেলের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসাথে ১০০টিরও বেশি ব্যবহৃত গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে ওই জায়গা থেকে।
বিপুল পরিমাণ এই কার্তুজ উদ্ধারের পর পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, যেহেতু রাইফেলের গুলি পাওয়া গিয়েছে, তাই ওই এলাকায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। কারণ, এতগুলি ব্যবহৃত গুলির খোল প্রমাণ করে যে ওই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আর কোথায় কোথায় অস্ত্র বা গুলি মজুত করা রয়েছে, তা জানতে বাড়ির আশেপাশের এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ উইয়ে কাটা টাকার থেকেও ‘মারাত্মক’! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার পুলিশের
বেপাত্তা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা, অভিযোগ একাধিক
এলাকাবাসীর মতে, অভিযুক্ত জাবেদ ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বেশ ঘনিষ্ঠ। ফলে এলাকায় একপ্রকার দাপট রয়েছে তাঁর। জাবেদের বিরুদ্ধে এর আগেও জমি দখল, তোলাবাজি, এলাকায় গুলি চালানো থেকে খুনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এদিনের পুলিশি অভিযানের ব্যাপারে টের পেতেই কার্যত বেপাত্তা জাবেদ। তল্লাশির সময়ও তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
এদিকে শাসকদলের নেতার বাড়ি থেকে এমন বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। স্থানীয় বিজেপি নেতা সুমন হালদার বলেন, ‘জাবেদের বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বহু জায়গায় গুলি চালানোর রেকর্ড রয়েছে। আমাদের দাবি, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় যেখানে যত বেআইনি বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র মজুত আছে, পুলিশকে সেগুলি অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে’।




