হকার উচ্ছেদের পর কলেজ স্ট্রিটেও চলবে বুলডোজার? আশঙ্কার মাঝেই বার্তা কলকাতা পুরসভার

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থান বলতে প্রথমেই মাথায় আসে কলেজ স্ট্রিটের (College Street) নাম। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও পুরনো বইয়ের বাজার বা ‘বইপাড়া’ হিসেবে এর খ্যাতি জগৎজোড়া। কিন্তু সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা হকার উচ্ছেদ (Hawker Eviction) অভিযানের মাঝে এই বইপাড়াতেও উচ্ছেদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গুঞ্জন, এবার নাকি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বুলডোজার চলবে কলেজ স্ট্রিটেও! সত্যিই কি তাই? বড়সড় বই বিক্রেতাদের উদ্বেগ লাঘব করে স্বস্তির বার্তা দিল কলকাতা পুরসভা (KMC)।
কলেজ স্ট্রিটেও চলবে বুলডোজার!
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোদিকের ফুটপাত ও কফি হাউসের লাগোয়া বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিট। এখানের ফুটপাতে থাকা কয়েকশো বইয়ের দোকানগুলি কয়েক দশক ধরে শহর কলকাতার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন বই বিক্রেতা অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার কয়েকজন আধিকারিক নাকি তাঁদের কাছে এসে মৌখিকভাবে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খবর ছড়াতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় গোটা কলেজ স্ট্রিট চত্বরে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়, হঠাৎ করে দোকান তুলে দিতে হলে এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বেঁচে থাকা অসংখ্য মানুষ ও কর্মচারীদের পথে বসতে হবে।
কি বলছে কলকাতা পুরসভা?
উচ্ছেদের জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে নামেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তিনি কলেজ স্ট্রিট নিয়ে সমস্ত উচ্ছেদের গুজব উড়িয়ে দিয়ে জানান, কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতাদের উচ্ছেদ করার কোনও রকম পরিকল্পনা কলকাতা পুরসভার নেই। পুরসভার তরফ থেকে এমন কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। ভবিষ্যতেও ঐতিহ্যবাহী এই বইপাড়ায় এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা নেই।
আরও পড়ুনঃ উইয়ে কাটা টাকার থেকেও ‘মারাত্মক’! সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার পুলিশের
একইসাথে যদি কেউ উচ্ছেদ সংক্রান্ত কোনও ভুয়ো নোটিশ পেয়ে থাকেন বা কেউ মৌখিক নির্দেশ দেন, তবে তা অবিলম্বে যাচাই করা উচিত। দরকারে পুলিশ ও প্রশাসনের সাহায্য নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, হাওড়া থেকে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু করে শহরের আরও বেশ কিছু জায়গায় বুলডোজার দিয়ে বেআইনি দখলদারি ও দোকানপাট ভেঙে ফেলার ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। এর জেরেই কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতাদের মনে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাসা বেঁধেছিল। এক বই ব্যবসায়ীর মতে, বই বিক্রি করা আর অন্য পাঁচটা সাধারণ জিনিসের ব্যবসা করা এক নয়। পাঠকদের সুবিধার্থে বইগুলিকে ঠিকমতো সাজিয়ে রাখার জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয়, যা ছোট পরিসরে সম্ভব নয়। হঠাৎ করে সেই চেনা জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হলে শতাব্দীপ্রাচীন এই ব্যবসার কাঠামোটাই ভেঙে পড়বে।




