‘তোমাদের ঘর ছাড়া..’, মন্ত্রী হয়েই কাকে নিশানা দিলীপের?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে সরকার বদলের পর নতুন প্রশাসনের প্রথম পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পর আজ হয়ে গেল মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। এই আবহে নবনির্বাচিত বিধায়ক দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ?
বাংলায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম মুখ ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর সভাপতিত্বকালেই লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে নজরকাড়া ফল করেছিল বিজেপি। এবারের বিধানসভা ভোটেও বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ।
সোমবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আজ ক্যাবিনেট মিটিং আছে। ছোট মন্ত্রিসভা হয়েছে। আমরা আলোচনা করেছি। মোদি সরকার যেই টাকা দিতেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকে দিতেন। আমরা গরিব মানুষকে সব সুযোগ দেব। ৫০ বছর ধরে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে। দিদিমণির এগিয়ে বাংলা বলে মানুষকে পিছিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমরা ভারতের দিকে এগিয়ে থাকব বাংলাদেশের দিকে নয়। রাতারাতি সোনার বাংলা হবে না। কিন্তু এটাও ঠিক সোনার বাংলা না করে আমরা ছাড়ব না।”
এদিন বেলেঘাটার সরকার বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকে বেলেঘাটাতে এসে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আমরা বেলেঘাটা জিতিনি কিন্তু রাজ্য জুড়ে জয় হয়েছে। আপনারা জিতিয়েছেন। বাংলায় ভয়ের রাজনীতি শেষ। তোলা তুলত যারা, সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাকি সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফ্ল্যাটের টাকা লুট করা হয় এখানে। যত সমাজবিরোধীদের নেতা বাইয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এদিন সরব হন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, “আমাকে পুলিশ ফোন করে বলছেন এসআইআর দেখবেন যাতে গণ্ডগোল না হয়। আমি বলেছি আমরা করেছি এর আগেও? যারা করত তাদের আপনারা পাহাড়া দিয়েছেন। যারা ১৫ বছর কষ্ট দিয়েছে তারা ১৫ দিন কষ্ট করবেন না? যেই চায়ের দোকানে চা খেতাম সুভাষ সরোবরে এসে, তার চায়ের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন : আয়ুষ্মান থেকে চাকরি, প্রথম বৈঠকেই একের পর এক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
এখানেই থামেননি দিলীপ ঘোষ। প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তোমাদের তো জুতো পেটা করা উচিত সেটা করা হয়নি। তোমাদের ঘর ছাড়া করা উচিত। আমরা করিনি। তোমাদের পাপে তোমরা ঘরছাড়া।” নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পাশাপাশি বিজেপির ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।



